Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন যুবক, পরে মিলল মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১০:৩১ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর বিয়ে দিলেন যুবক, পরে মিলল মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী প্রতিবেশীর সঙ্গে স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক। বিষয়টি টের পেয়ে নিজেই স্ত্রীকে সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে বিয়ে দিয়েছেন। সেই বিয়ের কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষরও করেছেন। এরপর চলছিল পারিবারিক কলহ ও নিজের সঙ্গে যুদ্ধ। ঘটনার সপ্তাহ দু-এক পর মিলল ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ।

গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলায় নিজ বাড়ি থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুবকের নাম আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮)। তিনি ওই এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে।

আব্দুল্লাহর স্বজনদের দাবি, আব্দুল্লাহর স্ত্রী দুই সন্তানের মা সাথী (২৬) মালয়েশিয়াপ্রবাসী সুমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে সেই যুবককে বিয়েও করেছেন। এরপর পথ পরিষ্কার করতে সাথীই নানাভাবে নির্যাতন করে মিথুনকে হত্যা করেছেন।

আব্দুল্লাহর চাচা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আব্দুল্লাহর স্ত্রী সাথী ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সুমন নামের একটা ছেলেকে বিয়ে করেছে। এরপর সুমনের পরামর্শে সাথী আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। আমরা সুমন ও সাথীর বিচার চাই।’

আজ সোমবার সরেজমিনে জানা গেছে, নির্মাণশ্রমিক আব্দুল্লাহ ১০ বছর আগে একই উপজেলার মধুপুর গ্রামের সাথীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে ছয় ও চার বছর বয়সী দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। তাদের সংসার ভালোই চলছিল।

আব্দুল্লাহ ও তার প্রতিবেশী সুমন একসঙ্গে বড় হয়েছেন। সেই সূত্রে সাথীর সঙ্গে সুমনের পরিচয় হয়। চার বছর আগে সুমন মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরে দেশে এসে কয়েক দিন বাড়িতে থাকার পর তিন মাস আগে আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একপর্যায়ে সুমনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান সাথী। বিষয়টি টের পেয়েছিলেন আব্দুল্লাহ। স্ত্রীকে অনেক বুঝিয়েও ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে কাজি অফিসে নিয়ে সাথীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন।

আব্দুল্লাহর মা রওশনারা বলেন, ‘এসব কিছু আমরা জানতে পারিনি। আমার ছেলেকে মানসিকভাবে চাপ দিত ওর বউ। রোববার রাতে ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পরে বউ দৌড়ে এসে বলে, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমার ধারণা, বউ গলায় গামছা জড়িয়ে আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। পরে লাশ বারান্দায় আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে।’

আব্দুল্লাহর মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে স্বামীর মরদেহ রেখে সাথী ঘরে ঢুকে দরজা আটকে বসে থাকেন বলে জানান এক প্রতিবেশী। পরে দরজা ভেঙে তাকে বের করে আনা হয়।

আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মুবাশশের আল মুবিন বলেন, ‘আব্দুল্লাহ আমার ছোটবেলার বন্ধু। তিন দিন আগে ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তখন ওর মন খারাপ ছিল। দেখলাম, ও একটা নম্বরে ফোন করে কান্নাকাটি করছে, মাফ চাচ্ছে। আমি জানতে চাইলে ও (আব্দুল্লাহ) বলে, ‘‘বন্ধু, আমি একটা ভুল করে ফেলেছি। আমি আমার স্ত্রীকে (সাথী) নিজে উপস্থিত থেকে অন্য স্থানে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটির নাম সুমন। সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই।’’’

মুবাশশের আল মুবিন আরও বলেন, ‘আমি কারণ জানতে চাইলে বলে, ‘‘আমাকে বাসা থেকে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিল। সাথী আমাকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করেছে। আমার দুই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে এ কাজ করেছি।’’’

অভিযোগের বিষয়ে সাথী বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার স্বামী সুমনকে মোবাইল ফোনে কল করে বলে, ‘‘তুই আমার একটা কথা রাখ। আমার স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব নে।’’ সুমন প্রথমে রাজি ছিল না। পরে আমার স্বামী চাপ দিয়ে ওকে রাজি করিয়েছে।’

সাথী আরও বলেন, ‘পরে আব্দুল্লাহ আমাকে গা ছুঁয়ে শপথ করায়। সুমনকে বিয়ে করতে রাজি হতে বাধ্য করে। ১৪ সেপ্টেম্বর এসব কথা হয়। আমি রাজি ছিলাম না। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার ধোপাদি এলাকার একটি কাজি অফিসে নিয়ে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেয়। আমার স্বামী ওই কাগজে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করে।’

গতকাল রাতে এসব নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় জানিয়ে সাথী বলেন, ‘আমি আমার আব্বাকে সব খুলে বলতে চাই। একপর্যায়ে ও গলায় গামছা জড়িয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে।’

বিদেশে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুমনের ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন দাবি করেন, ‘আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর আমরা বিষয়টি জেনেছি। পরে আমরা সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সুমন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। আব্দুল্লাহ ও সুমনের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের।’

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)