নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে যশোরে জামায়াতের সমাবেশ ছবি: ধ্রুব নিউজ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে যশোরে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় যশোর শহরের কোর্ট মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ঢল নামে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই স্বৈরাচার উৎখাত করতে গিয়ে বাংলাদেশের ১৬০০ তরুণকে সেদিন জীবন দিতে হয়েছিল। জুলাই বিপ্লব কোনো একক দলের ছিল না, এটি ছিল তরুণ সমাজসহ আপামর জনগণের। সাড়ে ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অন্য ইসলামী দলগুলোর নেতা-কর্মীরা গুম ও ফাঁসির শিকার হয়েছেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে দুই বছর অতিক্রম হলেও এখনো গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দৃশ্যমান বিচার সম্পন্ন হয়নি। অবিলম্বে খুনি স্বৈরাচার ও তার দোসরদের বিচার বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।’
বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে এমপি গোলাম রসুল বলেন, "যে বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে জুলাই বিপ্লব হয়েছিল, আমরা বর্তমান নতুন সরকারের পদক্ষেপে সেই ইনসাফ দেখতে পাচ্ছি না। সরকারি দলীয় এমপিদের ক্ষেত্রে আকাশচুম্বী বৈষম্য করা হচ্ছে এবং সকল সেক্টরে দলীয়করণ ও লাগামহীন দুর্নীতি পুনরায় ফিরে আসছে।" এছাড়া গণভোটে ৭১% মানুষের সমর্থনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দ্রুত অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

মিছিলপূর্ব এ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, শামসুজ্জামান ও মনিরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সম্পাদক মুফতি রাশেদুজ্জামান, জেলা জামায়াতের প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা, যশোর শহর শিবিরের সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, শহর জামায়াতের আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন, এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আশরাফ ও সেক্রেটারি আব্দুল হক।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনগণের মতামত ও রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখল, সহিংসতা ও সংঘাতের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন বা শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি।
সমাবেশ শেষে প্রবল বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রায়টি কোর্ট মোড় থেকে শুরু হয়ে দড়াটানা, আরএন রোড হয়ে মনিহার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, কর্মী-সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ধ্রুব/টিএম