ক্রীড়া ডেস্ক
শনিবার বিকেলে শহরের আর এন রোড ক্রীড়া চক্রের মাঠে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘রিপন অটোস জুনিয়র বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬’। ছবি: ধ্রুব নিউজ
বিশ্বকাপ হচ্ছে যশোরে, ফিফার আদলে অনুর্ধ্ব ১০ বয়সীরা খেলছেন ১৬ দেশের হয়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই অভূতপূর্ব উত্তেজনা এখন আর শুধু টেলিভিশনের পর্দায় নয়, ছড়িয়ে পড়েছে যশোরের খুদে ফুটবলারদের মাঝেও। ছোট্ট পায়ে বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে শিশুরা। কারও গায়ে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি, কেউ আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, আবার কেউ বাংলাদেশের লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছে। বিশ্বকাপের সেই পরিচিত আবহ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যশোরে।
আজ শনিবার বিকেলে শহরের আর এন রোড ক্রীড়া চক্রের মাঠে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘রিপন অটোস জুনিয়র বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬’। শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মনসুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান।
টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক ও ব্রাদার টিটোস হোমের অধ্যক্ষ মো. আলী আযম টিটো জানান, গত রবিবার এই টুর্নামেন্টের খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। চূড়ান্তভাবে ২৪০ জন শিশুকে বিশ্বের জনপ্রিয় ১৬টি দেশের নামে গঠিত ১৬টি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি দলই বিশ্বকাপের আদলে নিজেদের দেশের জার্সি পরে মাঠে নামছে। ফলে শিশুদের কাছে এটি শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক ও ব্রাদার টিটোস হোমের অধ্যক্ষ মো. আলী আযম টিটো বলেন, "শিশুদের কাছে বিশ্বকাপের আনন্দ পৌঁছে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। তারা যেন নিজ নিজ প্রিয় তারকাদের অনুকরণ করে মাঠে খেলতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দলগত চেতনা (টিম স্পিরিট) গড়ে তোলার দিকেও আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।"
আজকের উদ্বোধনী ম্যাচে চারটি দল মাঠে নামে। উদ্বোধনী পর্বের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বনাম ব্রাজিল, এ ম্যাচে ব্রাজিলকে ০-১ গোলে পরাজিত করে জয়ী হয় বাংলাদেশ, এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডকে পরাজিত ০-১ এ করে জয়লাভ করে মিশর।তৃতীয় ম্যাচে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা ১-১ ড্র করে।এ রিপোর্ট লেখাকালে চতুর্থ ম্যাচ চলছিল।
খেলার ফলের চেয়ে মাঠজুড়ে ছিল শিশুদের আনন্দ, প্রতিযোগিতার স্পৃহা এবং ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রকাশ। ছোট ছোট ফুটবলারের প্রতিটি পাস, ড্রিবল আর গোলের চেষ্টায় যেন ফুটে ওঠে বিশ্বকাপের আসল রোমাঞ্চ।
খুদে ফুটবলারদের এই নান্দনিক খেলা দেখতে গ্যালারির চারপাশে ভিড় করেন শত শত অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় দর্শক। মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে সন্তানদের খেলা উপভোগ করছিলেন অভিভাবকরা; কেউ মোবাইল ফোনে স্মৃতি ধরে রাখছেন, কেউবা করতালিতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা বলছেন, এমন আয়োজন শিশুদের মোবাইল ও অনলাইননির্ভর জীবন থেকে মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এখান থেকেই ভবিষ্যতের প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। খুদে ফুটবলারদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর এই জুনিয়র বিশ্বকাপ যেন প্রমাণ করে—বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য শুধু বড়দের নয়, স্বপ্ন দেখা শিশুদের মধ্যেও সমানভাবে বেঁচে থাকে।