ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ৮৩ এবং শেষ দিকে লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেনের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে ২৭৫ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে অজিদের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা।
নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ইনজুরির কারণে ছিটকে যাওয়ায় এই ম্যাচে টস করতে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই জেভিয়ার বার্টলেটের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার (২)।
প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়েন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। কন্ডিশনের সুবিধা পাওয়া অজি বোলারদের বিপক্ষে কিছুটা আগ্রাসী ব্যাটিং করে ৫৬ বলে ৫১ রান যোগ করেন তারা। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ম্যাট রেনশকে বড় শট খেলতে গিয়ে রাইলি মেরেডিথের হাতে ক্যাচ দেন ১৯ রান করা তানজিদ। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি অধিনায়ক শান্তও। ১৫তম ওভারে সেই রেনশর বলই সুইপ করতে গিয়ে স্টাম্পে টেনে আনেন তিনি (২৪)।
৬২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপদে, তখন দলের হাল ধরেন লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। অজি স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা ও পেসারদের দেখেশুনে খেলে ৬০ বলে ৫০ রানের জুটি পূর্ণ করেন তারা। তবে ৩২তম ওভারে বাধে বিপত্তি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে পায়ে চোট নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রান নিচ্ছিলেন লিটন। শেষ পর্যন্ত ফিজিওর সাথে ৪৮ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান।
লিটন মাঠ ছাড়লে ক্রিজে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন। প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক এদিনও চেনা ছন্দে ব্যাটিং করতে থাকেন। অন্যপ্রান্তে ৬২ বলে কেরিয়ারের ত্রয়োদশ ফিফটি তুলে নেন তাওহিদ হৃদয়। দুই ব্যাটার মিলে ৫১ বলে জুটির হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন। সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়া হৃদয় অবশেষে ৪৬তম ওভারে বেন ডোয়ার্শাসের স্লোয়ারে ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন। আউট হওয়ার আগে ৮৮ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৮৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি। তার বিদায়ে ভাঙে ৮৩ বলে গড়া ৯৩ রানের চমৎকার জুটি।
হৃদয়ের বিদায়ের পর শেখ মেহেদি হাসান ৩ রান করে বার্টলেটের শিকার হলে আবারও মাঠে নামেন চোট কাটিয়ে ওঠা লিটন দাস। অন্যপ্রান্তে ৪৩ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের আরেকটি হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন মোসাদ্দেক। আর ইনিংসের ৪৯তম ওভারের শেষ বলে ২ রান নিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর ও ২৯ ইনিংসের অপেক্ষা ঘুচিয়ে মিরপুরের মাটিতে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটির দেখা পান লিটন। শেষ পর্যন্ত লিটন ৭৯ বলে ৫০ এবং মোসাদ্দেক হোসেন ৪৫ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকলে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অফ-স্পিনার ম্যাট রেনশ ২৫ রানে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডোয়ার্শাস ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৫ (হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৩*, লিটন ৫০*, শান্ত ২৪, তানজিদ ১৯, সৌম্য ২; রেনশ ২/২৫, বার্টলেট ১/৪৫, ডোয়ার্শাস ১/৪৭)।