কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
সন্ত্রাসীরা হামলায় গুরুতর জখম মঈন উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার শালকোপা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে মঈন উদ্দিন নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করেছে একদল সন্ত্রাসী। হামলার পর আহত যুবকের ঘরবাড়িতে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই যুবক আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে শালকোপা গ্রামে এই লোমহর্ষক হামলার ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত মঈন উদ্দিন ওই গ্রামের আলতাপের ছেলে।
দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের মো. আজিজুলের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ও কহিনুর বেগমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মঈন উদ্দিনের ওপর অতর্কিত ও পরিকল্পিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করে। মঈন উদ্দিন চিৎকার করতে করতে রাস্তার ওপর অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।
আহতের পরিবারের অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীরা মঈনকে শুধু কুপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তাকে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে মঈনের ঘরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মঈন উদ্দিনকে উদ্ধার করে দ্রুত কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান বা কঠোর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানা পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার এবং সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, এই বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার মূল হোতা সাইফুল ইসলাম ও কহিনুর বেগমসহ সকল অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ধ্রুব/এস.আই