ক্রীড়া ডেস্ক
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের উইকেট নেওয়ার পর সতীর্থরা অভিবাদন জানান নাহির রানা-কে ছবি: পিএসএল
শুরুটা ছিল আশঙ্কাজনক, কিন্তু শেষটা হলো রাজকীয়। পাকিস্তানের মাটিতে গতির ঝড় তুলে আরও একবার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের তরুণ পেস সেনসেশন নাহিদ রানা। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) হাইভোল্টেজ ফাইনালে পেশাওয়ার জালমির জার্সিতে বল হাতে দ্যুতি ছড়িয়েছেন এই ২৩ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার। শুরুতে রান দিলেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচায় শিকার করেছেন ২ উইকেট।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা হায়দরাবাদ কিংসমেন শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিল। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে নাহিদ যখন প্রথমবার বল হাতে নেন, তখন সাইম আইয়ুবের তোপের মুখে পড়েন তিনি। ওই ওভারে একটি ছক্কা ও একটি চারে ১৩ রান খরচ করলে মনে হয়েছিল দিনটি নাহিদের নয়।
তবে বিসিবির বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফাইনাল খেলতে যাওয়া নাহিদ দমে যাননি। অষ্টম ওভারে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই দেখান আসল চমক। ওভারের প্রথম বলেই অজি তারকা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে গতিময় বাউন্সারে কুপোকাত করেন তিনি। পুল করতে গিয়ে মিড-অনে ধরা পড়েন ম্যাক্সওয়েল, সঙ্গী হয় ‘গোল্ডেন ডাক’। ওই ওভারে ১ রান দিয়ে এক উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি একটি রান আউটেও পরোক্ষ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ইনিংসের ১৪তম ওভারে নিজের তৃতীয় স্পেলে ফিরে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন নাহিদ। ঘড়ির কাঁটায় ১৪৮ কিলোমিটার গতিতে করা এক দুর্দান্ত ডেলিভারিতে হুনাইন শাহর স্টাম্প উপড়ে ফেলেন তিনি। সেই ওভারে কোনো রানই দেননি তিনি (১টি লেগ বাই বাদে)। নিজের শেষ ওভারেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৪ রান খরচ করেন এই তরুণ তুর্কি। সবমিলিয়ে তার ৪ ওভারের স্পেলে ছিল একটি মেডেন এবং অসংখ্য ডট বল।
নাহিদ রানা এবং অ্যারন হার্ডির বোলিং তোপে একপর্যায়ে ২ উইকেটে ৭১ রান তোলা হায়দরাবাদ কিংসমেন মাত্র ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে সাইম আইয়ুব ৫০ বলে ৫৪ রান করলেও অন্য কেউ তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। পেশাওয়ারের হয়ে অ্যারন হার্ডি ২৭ রানে ৪টি এবং নাহিদ রানা ২২ রানে ২ উইকেট নিয়ে জয়ের পথ সুগম করেন।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতির জন্য নাহিদকে শুরুতে এনওসি (ছাড়পত্র) দিতে চায়নি বিসিবি। তবে বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে তাকে ফাইনাল খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। বোর্ডের সেই আস্থার প্রতিদান নাহিদ দিয়েছেন সুদে-আসলে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ৪ ম্যাচ খেলে নাহিদ ঝুলিতে পুরেছেন ৯টি উইকেট। বড় ম্যাচের চাপ জয় করে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটারকে যেভাবে পরাস্ত করেছেন, তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।