Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

❒ পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন হচ্ছে

ডিজিটাল ডিভাইসে পাঁচ বছর,  প্রশ্ন ফাঁস করলে ১০ বছর কারাদণ্ড

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ এপ্রিল,২০২৬, ০১:২৬ পিএম
ডিজিটাল ডিভাইসে পাঁচ বছর,  প্রশ্ন ফাঁস করলে ১০ বছর কারাদণ্ড

ছবি: এআই প্রণীত

পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম, বিশেষ করে ডিজিটাল মাধ্যমে নকল ও প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধকে (ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করা অথবা প্রশ্ন ফাঁস করা) আইনের আওতায় এনে শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের জন্যও এই আইনের অধীনে বিচার করার বিধান রাখা হচ্ছে। গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। জানা গেছে, খসড়া আইনে মোট ১৯টি ধারা সংযোজন ও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতি করলে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্ন ফাঁস বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। এসব অপরাধের বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনে উল্লেখযোগ্য কিছু শাস্তির প্রস্তাব হলো– অন্যের হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ: ২ বছর কারাদণ্ড; পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্ন ফাঁস: ৪ বছর কারাদণ্ড; অ্যাডমিট কার্ড/সার্টিফিকেট জাল বা পরিবর্তন: ৪ বছর কারাদণ্ড; উত্তরপত্র পরিবর্তন বা অতিরিক্ত পৃষ্ঠা সংযোজন: ২ বছর সাজা, নকলে সহায়তা: ২ বছর সাজা, অননুমোদিতভাবে পরীক্ষা গ্রহণ বা খাতা মূল্যায়ন: ২ বছর সাজা, দায়িত্বে থেকে অপরাধ: ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। এ ছাড়া পরীক্ষক যদি পরীক্ষার খাতায় ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর বাড়ানো বা কমানোর মতো অনিয়ম করেন, তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে আইনের খসড়ায়।

প্রস্তাবিত সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্তদের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা যাবে। মেট্রোপলিটন বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এসব মামলার বিচার করবেন এবং সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার হলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া কেউ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন করতে পারবেন না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সংসদে পাস হলে আগামী ২১ এপ্রিল আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা থেকেই এই আইনের ধারাগুলো কার্যকর করা হবে। এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ৩১ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে– প্রশ্নপত্র ট্রেজারিতে যাচাই ও নিরাপদে পরিবহন, নির্ধারিত সময়ের আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ, বেঞ্চ অনুযায়ী আসন বিন্যাস, কক্ষভিত্তিক পর্যাপ্ত পরিদর্শক নিয়োগ, পরীক্ষা চলাকালে টয়লেট তল্লাশি, কেন্দ্রের বাইরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সিসিটিভি ব্যবহার এবং পুনঃনিরীক্ষণের বদলে পুনর্মূল্যায়ন। 

নতুন ব্যবস্থায় ফলাফল চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে প্রচলিত পুনঃনিরীক্ষণের পরিবর্তে খাতা পুনর্মূল্যায়ন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীরা আরও ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত বর্তমান আইনটি ১৯৮০ সালে প্রণীত এবং ১৯৯২ সালে এর আংশিক সংশোধন করা হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে পরীক্ষায় অনিয়মের ধরন বদলে গেছে, ডিজিটালি নানা অপকর্ম শুরু হয়েছে, যা বিদ্যমান আইনে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত নয়।

এর আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ ৫ বাণিজ্য, প্রশ্ন ফাঁস, খাতা মূল্যায়নে অনিয়মসহ নানা দুর্নীতি বিস্তার লাভ করেছে।

অন্যদিকে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পরীক্ষাসংক্রান্ত ২০০টি মামলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৪৫টি, আর সাজা হয়েছে কেবল একটি মামলায়– যা আইন প্রয়োগের দুর্বলতা তুলে ধরে।

শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু আইন কঠোর করলেই হবে না, এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতিকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন বদলেছে, তাই আইনও আধুনিক হওয়া জরুরি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের নৈতিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আগে কাগজে নকল হতো, এখন ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি হচ্ছে। এসব ঠেকাতে শক্ত আইন ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই। তিনি জানান, পরীক্ষকদের জবাবদিহি বাড়াতে খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও আইনের আওতায় আনা হবে এবং এলোমেলোভাবে উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা করা হবে।

প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় আইন সংশোধন সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। সূত্র: সমকাল

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)