নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলায় আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ছবি: ধ্রুব নিউজ
সারাদেশের ৩০টি হটস্পটের অন্যতম চিহ্নিত যশোর সদর উপজেলায় আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। রোববার সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে সদর উপজেলার বিরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এই বিশেষ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
সকাল ৯টায় ফিতা কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ এবং যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল সাদিকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে জেলাজুড়ে প্রায় ৯০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সদর উপজেলাতেই প্রায় ৫১ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে জেলায় শিশুদের জন্য এক লাখের অধিক টিকার ডোজ মজুদ রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক। শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এই টিকা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়েছে, তাদের জন্য এই সুযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ৬ মাস বয়স থেকে শুরু করে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সদর ও পৌর ঐরাকার স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকা কেন্দ্রে টিকাদান চলবে।
তাছাড়া নিয়মিত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সের টিকার পাশাপাশি যারা আগে বাদ পড়েছে, তারা ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা নিতে পারবে।
যশোরে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ এই কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শনিবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জন শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত মোট ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি কোনো শিশুর শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি বা লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।