❒ অপ্রতিরোধ্য ইরান
ধ্রুব ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং নিখুঁত রণকৌশলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পশ্চিমা শক্তি। মার্কিন স্যাটেলাইট সংস্থা 'প্ল্যানেট ল্যাবস'-এর সাম্প্রতিক এক ঘোষণা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ইরানের শক্তির মোকাবিলা করতে না পেরে এখন তথ্যের অবাধ প্রবাহ রোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশে ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের সব ধরণের স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক সংস্থা 'প্ল্যানেট ল্যাবস'। শনিবার গ্রাহকদের কাছে পাঠানো এক বিশেষ ইমেইলে তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে ইরানের অভাবনীয় সাফল্য এবং মার্কিন-ইসরায়েলি স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে আসার ভয়েই এই ‘ব্ল্যাকআউট’ বা তথ্য গোপনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অন্যায়ভাবে ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করলে যে যুদ্ধের সূচনা হয়, সেখানে ইরান অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের নির্ভুল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পেন্টাগনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্ল্যানেট ল্যাবস স্বীকার করেছে যে, ইরানের কাছে যাতে কোনো গোপন তথ্য না পৌঁছায় সেজন্যই এই কঠোর ব্যবস্থা। এর আগে এই নিষেধাজ্ঞা স্বল্প সময়ের জন্য থাকলেও, এখন তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করার দক্ষতায় ভীত হয়েই যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশল অবলম্বন করেছে।
২০১০ সালে নাসার প্রাক্তন বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি এখন কার্যত মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে কাজ করছে। তারা জানিয়েছে যে, ৯ই মার্চের আগের কোনো ছবি তারা প্রকাশ করবে না এবং এই নীতি যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন কোনো পক্ষ যুদ্ধের ময়দানে নৈতিকভাবে হেরে যায়, তখনই তারা সংবাদমাধ্যম বা স্যাটেলাইট চিত্রের ওপর এমন সেন্সরশিপ আরোপ করে।
এদিকে সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লেও ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দুর্বল করার চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, ইরানের প্রতিরোধের মুখে আধুনিক বিশ্বের তথাকথিত শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোও আজ আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সত্যের জয় হবেই—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইরানের জনগণের অদম্য মনোবল এবং সামরিক শক্তির সামনে এই নিষেধাজ্ঞা আসলে মার্কিনীদের পরাজয় স্বীকারেরই নামান্তর। ধ্রুব/এস.আই