বেনাপোল (শার্শা) প্রতিনিধি
রমজান শুরু হতে না হতেই যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ইফতারসামগ্রীর দামে চরম ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মাছ, মুরগি ও মাংসের পাশাপাশি সবজি ও ফলের দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শার্শা উপজেলা প্রশাসন বাজারে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর ও চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবজির বাজারে অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে শসা ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা রমজানের আগে ছিল মাত্র ৫০ টাকা। এক হালি লেবুর দাম ঠেকেছে ১০০-১২০ টাকায়, বেগুন কেজি প্রতি ৮০-১০০ টাকা এবং ৪৫ টাকার কলা এখন ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমিষের বাজারে দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, সোনালি ৩০০ টাকা এবং ব্রয়লার ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল থাকলেও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
বাজারে আসা ক্রেতা রাসেল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে যে লেবু হালি ২০ টাকায় কিনেছি, এখন একটার দামই ২০ টাকা। সাধারণ মানুষের পক্ষে ইফতারের আয়োজন করাও এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” শহিদুল ইসলাম শাহীন নামে আরেক ক্রেতা জানান, আগে ১০০ টাকায় ৭ কেজি আলু মিলত, এখন পাওয়া যাচ্ছে ৬ কেজি। মশলা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের মূল অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এবং দোকানে কোনো মূল্যতালিকা রাখছেন না।
তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সবজি বিক্রেতা সেলিম রহমান ও কলা বিক্রেতা সবুর হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এবং আড়ত থেকে চড়া দামে কেনায় তাদের লাভ খুবই সীমিত হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত শনিবার ও রোববার বেনাপোল বাজারে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম। অভিযানকালে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয় রশিদ না রাখায় এক মুদি ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বেনাপোল বাজার কমিটির সভাপতি আবু তালেব বলেন, “আমরা প্রশাসনের সাথে আছি। ব্যবসায়ীদের নিয়ে বসে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।” নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রমজান মাসজুড়ে বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম না আসা পর্যন্ত কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।