এম জামান
সংযোগ সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, রোববারের চিত্র ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের মণিরামপুরের ঝাঁপা বাঁওড়ের ওপর নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক উদ্বোধনের মাস পার হওয়ার আগেই ধসে পড়েছে। ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের সড়কটি ধসে যাওয়ায় এখন ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বাঁওড়ের উত্তর পাড়ে কোমলপুর অংশের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা হঠাৎ ধসে যায়, যার ফলে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তত্ত্বাবধানে গত বছরের মে মাসে ১৩.২০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সেতু ও সংলগ্ন ৫২৩ মিটার হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) রাস্তার মোট নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু সড়কের জন্যই বরাদ্দ ছিল ৫০ লাখ টাকা। তবে নির্মাণের মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় বৃষ্টি ছাড়াই রাস্তাটি ধসে পড়ায় কাজের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক তদারকি না থাকা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গনি জানান, আগের জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে নতুনটি অনেক উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে। সড়কটি মেলাতে প্রচুর মাটি ভরাট করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই মাটি বসার পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই তড়িঘড়ি করে ইটের সলিং বিছিয়ে দেওয়া হয়। ফলে হালকা চাপেই রাস্তাটি ধসে বাঁওড়ে চলে গেছে। পথচারী শাহজাহান মিয়ার মতে, সড়কের কাজ অত্যন্ত লুকোচুরিভাবে করা হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
কোমলপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খালেদুর রহমান টিটু বলেন, মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করলে এবং মাটি থিতু হওয়ার সময় দিলে হয়তো এমনটি হতো না। দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কারণেই আজ এই দশা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার জানান, কাজে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। উল্টো লোকসান দিয়ে কাজ করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, সড়কের নিচের পলিমাটি লোড ধরে রাখতে না পারায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে।
মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ জানান, ধসে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুততম সময়ে একটি টেকসই ডিজাইনের মাধ্যমে সড়কটি পুনরায় মেরামত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তবে পুনরায় মেরামত না হওয়া পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের এই ভোগান্তি সহসা কাটছে না।