ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
এনসিপির গণবিক্ষোভে নেতাকর্মীরা ছবি: সংগৃহীত
সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং নজিরবিহীন দলীয়করণের প্রতিবাদে রাজধানী শাহবাগে এক উত্তাল গণবিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের তীব্র সমালোচনা করেন রাজনৈতিক দলটির শীর্ষ নেতারা। সমাবেশ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগসহ চার দফা দাবি তুলে ধরা হয় এবং দাবি আদায় না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘেরাও করার সরাসরি কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, দেশ পরিচালনায় বর্তমান প্রশাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বা রূপরেখা নেই। গণভোটে উঠে আসা জনআকাঙ্ক্ষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা দেশের জন্য ক্ষতিকর। অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠনের তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া, জুলাই গণহত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্ন করে তা অবিলম্বে কার্যকর করা, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা পরিপন্থী সকল কালো আইন বাতিল করা এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের বিতর্কিত সংশোধনী পাস করা থেকে বিরত থাকার দাবি জানান এনসিপি প্রধান। পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ থেকে ঘোষিত চার দফা দাবির মূল বিষয়গুলো ছিল— ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণরায়ের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী বাতিলসহ মুক্তচিন্তা ও মানবাধিকারবিরোধী আইন প্রত্যাহার এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে নেতারা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও বিচার নিশ্চিত না হলে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে সতর্ক করেন তারা।