ক্রীড়া ডেস্ক
প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন তরুণ নিকো পাজ ছবি: কোমো
ইতালিয়ান 'সিরি আ' ফুটবলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিকো পাজ। সিসেক ফাব্রেগাসের শিষ্য কোমো দলের এই তরুণ মিডফিল্ডার আবারও নিজের প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়েছেন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচ রাঙানোর পাশাপাশি নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন গোল ও অ্যাসিস্ট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবুজ গালিচায় আরও ধারালো হয়ে উঠছেন এই আর্জেন্টাইন মার্ভেল।
গত ম্যাচে কোমোকে জেতাতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন পাজ। পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেন তিনি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন নিখুঁত দক্ষতায়। পুরো ম্যাচে গোলের উদ্দেশ্যে তিনি মোট ৬টি শট নেন, যার মধ্যে ১টি ছিল অন-টার্গেট। এছাড়া সতীর্থদের জন্য ৩টি 'কি পাস' তৈরি করার পাশাপাশি একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেন এই মিডফিল্ডার।
মাঝমাঠে বলের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং দক্ষতার অনন্য এক প্রদর্শনী দেখিয়েছেন পাজ। পুরো ম্যাচে তিনি ৫০টি পাস খেলে সফল হয়েছেন ৪৩টিতে, যা ৮৬ শতাংশ নিখুঁত। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের অর্ধে খেলা ৪৫টি পাসের ৩৮টিই সঠিক ঠিকানায় পৌঁছেছে (সাফল্যের হার ৮৪ শতাংশ)। এমনকি নিজের অর্ধ থেকে খেলা ৫টি পাসের শতভাগই নির্ভুলভাবে সতীর্থদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে ৫টি ক্রসের চেষ্টা করেন, যার মধ্যে একটি সফল হয়।
ম্যাচ জুড়ে সক্রিয় থাকা এই তরুণ ৭৭ বার বল স্পর্শ করেছেন। বল পায়ে ১৭টি চমৎকার রান নিয়ে তিনি মাঠের ওপর দিয়ে মোট ১০৭.২ মিটার পথ অতিক্রম করেন। ৩টি ড্রিবল প্রচেষ্টার মধ্যে ১টিতে সফলতা দেখিয়ে কোমো শিবিরের আক্রমণভাগকে সবসময় সচল রেখেছিলেন।
রিয়াল মাদ্রিদের বিখ্যাত যুব একাডেমি 'লা ফ্যাব্রিকা' থেকে উঠে আসা এই তরুণ তুর্কি বর্তমানে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কোমো এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নিজের শেষ ১২টি ম্যাচেই তিনি রেখেছেন অবিস্মরণীয় অবদান—যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ৮টি গোল এবং ৭টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ, এই অল্প সময়েই সরাসরি ১৫টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন এই মিডফিল্ডার।
নিকো পাজের এমন চোখ জুড়ানো পারফরম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই আকাশচুম্বী করে তুলেছে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের প্রত্যাশা। অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও নেতার আসনে দেখতে শুরু করেছেন। মাত্র ২২ বছর বয়সেই তার ফুটবলীয় পরিপক্বতা সবাইকে মুগ্ধ করছে।
তার পায়ের জাদুকরি স্কিল, ভিড়ের মাঝেও নিখুঁত স্পেস খুঁজে বের করার সহজাত ক্ষমতা এবং অসাধারণ প্লেমেকিং দক্ষতাই তাকে ফাব্রেগাসের কোমোর সৃজনশীলতার মূল ভিত্তি বানিয়ে তুলেছে। বর্তমান পারফরম্যান্স দিয়েই যিনি মোহিত করছেন ফুটবল বিশ্ব, তার পা ছুয়ে ভবিষ্যৎ যে আরও কত রোমাঞ্চকর গল্পের জন্ম দেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!