আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সমঝতা আলোচনার খন্ডচিত্র ছবি: আলজাজিরা
যুদ্ধবিরতিকে কেবল সূচনা দেখছে কাতার, এটি চূড়ান্ত চুক্তি নয় বলে দাবি ট্রাম্পের;
সেনাপ্রধানের সতর্কবার্তা—'যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর'
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চতুর্থ দিনে এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হওয়ার ১১৪ দিন পর, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চার-পক্ষীয় আলোচনার প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইরানি আলোচক দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম 'ফার্স নিউজ এজেন্সি' এই ঐতিহাসিক অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈরিতা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ করা গেছে। বৈঠকের সফলতায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কৃতিত্ব দাবি করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, "আলোচনাকারী দলগুলো শেষ পর্যন্ত শান্তির একটি স্থায়ী দলিল নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে সক্ষম হবেন।"
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রতিনিধিদলকে বেশ কয়েকটি জটিল কূটনৈতিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্য অংশীদারদের সুরক্ষার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমনই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে "কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের শুভ সূচনা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তারা চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য একটি বিশেষায়িত কারিগরি ও প্রকৌশল দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সাথে, সমঝোতা স্মারকটির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের পথে অর্জিত অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি শক্তিশালী 'ফলো-আপ' দলও গঠন করা হবে।
তবে এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরানের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী পরবর্তী মূল আলোচনা শুরু হওয়া মূলত পাঁচটি বিশেষ ধারা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো—সকল রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ ও সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানো।
ইরানের এমন অবস্থানের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে কিছুটা কঠোর সুর বজায় রেখেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকটি কেবলই চলমান যুদ্ধবিরতির একটি সাময়িক সম্প্রসারণ মাত্র, এটিকে কোনোভাবেই চূড়ান্ত চুক্তি বলা যাবে না।"
একই সুর শোনা গেছে মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের কণ্ঠেও। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের চিফ অফ স্টাফ দক্ষিণ লেবানন থেকে দেওয়া এক যুদ্ধকালীন ভাষণে সতর্ক করে বলেছেন, "ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত ভঙ্গুর। হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যেই আমাদের মারাত্মক আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে এবং তারা এই সুযোগে শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করতে পারে।"
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই চার-পক্ষীয় আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি করলেও, পক্ষগুলোর মধ্যকার গভীর অবিশ্বাস এবং পরস্পরবিরোধী শর্ত চূড়ান্ত চুক্তি অর্জনের পথকে এখনও চ্যালেঞ্জিং করে রেখেছে।