Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

গাজায় নতুন সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলের, প্রমাণ মিলেছে স্যাটেলাইট চিত্রে

ধ্রুব নিউজ ধ্রুব নিউজ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন,২০২৬, ০৬:০১ পিএম
গাজায় নতুন সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলের, প্রমাণ মিলেছে স্যাটেলাইট চিত্রে

গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এসবের মধ্যে অন্তত আটটি ঘাঁটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির নির্মাণ এখনো চলমান ছবি: সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর পুরোপুরি প্রত্যাহার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে উপত্যকাজুড়ে নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ ও পুরোনো অবস্থানগুলোকে আরো শক্তিশালী করছে ইসরায়েল। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

আল জাজিরার ওপেন সোর্স ইউনিটের তদন্তে মে মাস পর্যন্ত পাওয়া স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ৪০টি পৃথক সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এসবের মধ্যে অন্তত আটটি ঘাঁটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির নির্মাণ এখনো চলমান।

এই সামরিক অবকাঠামো সম্প্রসারণকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূখণ্ডগত পরিকল্পনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজার অধিকাংশ এলাকা দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে ইয়েলো লাইন বা বাফার ও সামরিক অঞ্চলজুড়ে অবস্থান করছে, যা গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ডের সমান।

তিনি দাবি করেন, ‘আমরা বর্তমানে হামাসকে চাপে রেখেছি এবং গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছি।’

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নতুন ঘাঁটিগুলো উত্তর গাজা, মধ্যাঞ্চল, নেতজারিম করিডরের পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণের খান ইউনিস এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি হলো খান ইউনিসের পূর্ব কবরস্থানের ধ্বংসাবশেষের ওপর নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওই কবরস্থান বুলডোজার দিয়ে সমতল করার কাজ শুরু হয়।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়াতেও একই ধরনের দ্রুত সামরিকীকরণের চিত্র পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যে এলাকা সম্পূর্ণ খালি ছিল, নভেম্বরে সেখানে প্রকৌশল ও নির্মাণকাজ শুরু হতে দেখা যায়।

শুধু নতুন ঘাঁটি নয়, বিদ্যমান সামরিক অবস্থানগুলোকেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। গাজা সিটির পূর্বদিকে একটি সামরিক ঘাঁটির আয়তন ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাঁজোয়া যান মোতায়েনের এলাকা এবং শক্তিশালী দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম কৌশলগত উদ্দেশ্য হলো নেতজারিম করিডরের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। এ করিডরের মাধ্যমে ইসরায়েল উত্তর ও দক্ষিণ গাজার মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ আকরাবাউই বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকে দখল, নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত সম্প্রসারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রীয় অংশে পরিণত হয়েছে।

তার মতে, নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ ও জনবসতি ঘেরাওয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত সাত মাসেও অন্তত ৯২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২ হাজার ৮১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)