আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চুলো জ্বালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন ৪৫ কোটি ভারতীয় ছবি: সংগৃহীত
ভোরের কুয়াশা আর ধোঁয়ার মাঝে বিহারের কাটিহারের মিলন কুমার মণ্ডল যখন কাঠের কুচি দিয়ে চাপাটি সেঁকছিলেন, তখন তাঁর চোখে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তাপ যেন সরাসরি এসে লেগেছে দিল্লির বস্তি এলাকার নির্মাণ শ্রমিকদের উনুনে। জ্বালানি সংকটের তীব্রতায় ভারতের অর্থনীতির ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে পরিচিত ৪৫ কোটি অভ্যন্তরীণ শ্রমিকরা সবকিছু গুটিয়ে চিরতরে শহর ছাড়ার কথা ভাবছেন।
ভারতের অনানুষ্ঠানিক খাতের প্রাণভোমরা এই শ্রমিকরা প্রতিদিন প্রায় ৬০০-৭০০ রুপি আয় করেন। কিন্তু রান্নার গ্যাসের (LPG) কালোবাজারি দাম তাঁদের সেই আয়ের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। মিলন কুমার মণ্ডল জানান, *"আগে কেজি প্রতি গ্যাসের দাম ছিল ৮০-৯০ রুপি, যা এখন আকাশচুম্বী হয়ে ৩০০ থেকে ৫০০ রুপিতে ঠেকেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি তার এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই মেটায় আমদানির মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতায় সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় টান পড়েছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। সরকার যদিও বলছে সরবরাহ স্বাভাবিক, কিন্তু বস্তি এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক বলছেন অন্য কথা। প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র না থাকায় সরকারি সিলিন্ডার পান না অনেকেই, ফলে কালোবাজারিই তাঁদের একমাত্র ভরসা—যা এখন তাঁদের নাগালের বাইরে। এমনকি সংকটের সুযোগে রান্নার কাঠের দামও এখন প্রায় দ্বিগুণ।
যেখানে একজন নির্মাণ শ্রমিকের দিনে তিন বেলা ভারী আহারের প্রয়োজন হয়। সেখানে নির্মাণ শ্রমিক লালু সিং আক্ষেপ করে বলেন, যদি উপার্জনের পুরোটাই খাবারের পেছনে চলে যায়, তবে আর কী বাকি থাকে? এর চেয়ে বরং গ্রামে ফিরে পরিবারের সঙ্গে থাকা ভালো।
গ্রামে কাজ অনিশ্চিত জেনেও, এই অনিশ্চিত মহানগরীর চেয়ে আপনজনের সান্নিধ্য আর স্বল্প খরচের জীবনই এখন তাঁদের কাছে শ্রেয় মনে হচ্ছে। ভারতের বুক চিরে ধাবমান ট্রেনগুলো এখন কেবল মানুষ নয়, বহন করছে হাজারো ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দীর্ঘশ্বাস।
সূত্র: এএফপি