বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
শার্শা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ছবি: ধ্রুব নিউজ
একটি জরাজীর্ণ ভবন। দেওয়ালে লেখা 'শার্শা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র'। পলেস্তারা খসে পড়া দেওয়াল, ভাঙা দরজা-জানাল এবং ধ্বংসাবশেষের কঙ্কালসার দৃশ্য যেন এক অব্যবস্থাপনার জ্বলন্ত প্রমাণ। এটি শার্শার হাজারো মানুষের চিকিৎসার ভরসা। কিন্তু ৫৪ বছর পেরিয়েও এই কেন্দ্রটি নিজেই 'মরণাপন্ন'। আধুনিকতার ছোঁয়া তো দূরে থাক, নূন্যতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে এটি ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে।

শার্শা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবনের একাংশ ধ্রুব নিউজ
এই ভগ্নস্তূপের মাঝেই সপ্তাহে মাত্র তিন দিন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়তি রানী। ২০২২ সাল থেকে তিনি একাই সব সামলাচ্ছেন। তার নেই কোনো সাহায্যকারী, নেই কোনো চিকিৎসক। যেন এক জরাজীর্ণ প্রাসাদে একাই রাজত্ব করছেন এক সেবিকা।
সালেহা বেগম (ছদ্মনাম), চিকিৎসা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, ডাক্তার তো দূরের কথা, নার্সও সবসময় থাকে না। ওষুধের অভাব, নূন্যতম কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। ৫৪ বছরে কিছুই বদলায়নি।
চিকিৎসা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ পাওয়া যায় না। বাথরুম ব্যবহার করতে হলে পাশের বাড়িতে যেতে হয়। অসুস্থ অবস্থায় পানিরও কোনো ব্যবস্থা নেই।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একমাত্র স্বাস্থ্যকর্মী নিয়তি রানী বলেন, ২০২২ সাল থেকে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। একাই সব সামলাতে হচ্ছে। আরও দুই-একজন কর্মী থাকলে সেবার মান অনেক উন্নত করা সম্ভব হতো।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির আধুনিকায়ন, নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক। তা না হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।