Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যশোরে জ্বালানি তেল পাম্প থেকেই হচ্ছে ‘লুট’

এম জামান এম জামান
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল,২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
যশোরে জ্বালানি তেল পাম্প থেকেই হচ্ছে ‘লুট’

অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ড্রাম ও ব্যারেল অকটেন নেয়ার চেষ্টা ছবি: ধ্রুব নিউজ

১৫ এপ্রিল বুধবার, বিকেল ৪টা ২১ মিনিট। যশোর শহরের মনিহার এলাকার যাত্রিক তেল পাম্প। সারাদিন পর শুরু হলো তেল বিক্রি। পাম্পের পশ্চিমে আর এন রোড জুড়ে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন। অপেক্ষায় ২৫০-৩০০ মোটরসাইকেল। কেউ এসেছেন ভোরে, কেউ বেলা বাড়লে। লাইনের শেষের দিকে যারা, তারাও এসেছেন দুপুরের আগে। জরুরি কাজে নিয়োজিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের জটলা পূর্বপাশে বাসমালিক সমিতির ভবনের পাশে। পরিচয় না থাকলেও গায়ের জোরে চলা কিছু মোটরসাইকেলওয়ালাও দাঁড়িয়ে পশ্চিম পাশে; উদ্দেশ্য লাইন না দিয়ে আগে তেল নেওয়া। পাশাপাশি লাইনে রয়েছে শত শত প্রাইভেটকার। বোতল ও ড্রাম হাতে লোকজনের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

এমন সময় পাম্পের সামনে এসে দাঁড়াল একটি অ্যাম্বুলেন্স। সামনে লেখা ‘বিমান বন্দরের কাজে নিয়োজিত’। একজনের সাথে চোখে চোখে কথা হলো অ্যাম্বুলেন্স চালকের। তারপর সব লাইন ভেঙে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢুকে পড়ে অকটেন মেশিনের সামনে। এতে বেঁধে যায় তীব্র জট। তেল নিয়ে বাইরে বের হতে পারছে না কোনো মোটরসাইকেল। এক অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যেন এক হুলুস্থুল কাণ্ড। মোটরসাইকেলের লাইন বাদ রেখে অ্যাম্বুলেন্সে তেল দেওয়ার জন্য তোড়জোড় করছেন নেতাগোছের কয়েকজন। তারা কোন পক্ষের, তা বোঝা মুশকিল।

তড়িঘড়ির মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে তেল দেওয়ার জন্য যখন এগিয়ে গেলেন নজেলম্যান, তখন অবাক সবাই। গ্যাসচালিত অ্যাম্বুলেন্সে তেল লাগলেও তা অকটেন নয়, ডিজেল। অ্যাম্বুলেন্স চালক ডিজেল ট্যাংকে অকটেন ঢুকানোর মতো বোকামি না করে খুলে দিলেন পেছনের দরজা। সেখানে সারিসারি সাজানো ব্যারেল ও কনটেইনার। সেগুলো ভরে দেওয়ার জন্য আবার তদ্বির করছেন সেই নেতাগোছের লোকজন।

মুহূর্তেই ছুটে এলেন পাম্পের মালিকপক্ষের একজন ও ট্যাগ অফিসার। বললেন, ‘ড্রামে কোনো তেল দেওয়া হবে না।’ তখন অ্যাম্বুলেন্স চালক চড়া গলায় বললেন, ‘এ তেল তো আমার লাগবে না, বিমানে লাগবে। বিমানে তেল না দিলে কি চলে?’ কিন্তু পাম্প মালিকপক্ষের প্রতিনিধি নাছোড়বান্দা; তিনি কোনোভাবেই বিমানের দোহাই দিয়ে ড্রামে তেল দিতে রাজি হননি। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর অ্যাম্বুলেন্সটি পাম্প ত্যাগ করে।

এভাবে ‘বিমানের তেল’, ‘অমুক ভাইয়ের তেল’ কিংবা ‘তমুকের তেল’—নানা অজুহাতে তেল চলে যাচ্ছে ড্রাম ও বোতলে। পাম্প মালিকপক্ষ বলছেন, তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়াই ভালো; এতো ঝক্কি-ঝামেলা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। নানা ছলচাতুরিতে তেল এক প্রকার লুট হয়ে যাচ্ছে। অথচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার নানা পদ্ধতি খোঁজা হচ্ছে প্রশাসনিকভাবে।

শুধু যাত্রিক পাম্পেই নয়, যেখানেই তেল বিক্রি হচ্ছে সেখানেই একই চিত্র। কয়েকদিন আগে হাশিমপুর এলাকার একটি পাম্প থেকে পিকআপ ভর্তি ড্রামে তেল নিয়ে আসা হয়। সেখানে তেল ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতার নাম ভাঙানো হয়। যারা তেল নিয়ে এসেছে তারা নিজেদের যশোর রেলগেট এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। এসব লুটেরাদের খপ্পরে পড়ে তেলের লাইন দিন দিন বাড়ছে। তেলের জন্য যেন এক যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার, ঢাকা রোডের মনির উদ্দিন পাম্পের সামনে প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা গেছে। অনেকেই সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুর কিংবা বিকেল পর্যন্ত জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। দিনের কোনো এক সময় পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেলে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে অসংখ্য চালককে। এতে কর্মজীবী মানুষ, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভোগান্তির কথা জানিয়ে মোটরসাইকেল চালক সুজন আলী বলেন, সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখন দুপুর। ৪-৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। এভাবে চললে আমাদের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে। মাইক্রোবাস চালক মো. আহাদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিয়ম মেনে লাইনে দাঁড়াই, অথচ কিছু মানুষ পরিচয় ব্যবহার করে লাইনের বাইরে তেল নেওয়ার চেষ্টা করে। এটা স্পষ্ট অন্যায়। বাইক চালক আব্দুর রহিম বলেন, অ্যাম্বুলেন্স দেখলে আমরা আগে যেতে দিই। কিন্তু সেটার ভেতরে ড্রাম দেখে খুব খারাপ লেগেছে।

পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খুলনা ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় তারা গ্রাহকদের সামাল দিতে পারছেন না। প্রশাসনের উপস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি বিতরণ করার চেষ্টা করা হলেও সীমিত মজুতের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কালোবাজারি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং লাইনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)