Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

বড় হয়ে বেকার থাকবে, এমন শিশুদের করছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ আগস্ট,২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
বড় হয়ে বেকার থাকবে, এমন শিশুদের করছে যুক্তরাজ্য

ছবি: প্রতীকী

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে তরুণদের কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের চিহ্নিত করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার গঠিত একটি পর্যালোচনা কমিশন।

পড়াশোনা বা কাজের বাইরে থাকা তরুণদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালান মিলবার্নের নেতৃত্বে এই পর্যালোচনাটি পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রস্তাবনার কথা জানান।

মিলবার্ন জানান, ১৬ বছর বয়সে শিক্ষা জীবন শেষ করে কাজ বা প্রশিক্ষণে যুক্ত না হওয়ার (NEET - Not in Employment, Education or Training) ঝুঁকি যাদের রয়েছে, প্রি-স্কুল বা প্রাথমিক শিক্ষা জীবন থেকেই তাদের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই তাদের শনাক্ত ও সহায়তা করার জন্য নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা তৈরি করা প্রয়োজন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশিক্ষণ—কোনোটিতেই যুক্ত না থাকা মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি আটজন ব্রিটিশ তরুণের মধ্যে একজন এই পরিস্থিতির শিকার।

অন্যান্য দেশের তুলনায় যুক্তরাজ্যে এই হার দ্রুত বাড়ছে। এর পেছনে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি এবং সংকুচিত শ্রমবাজারকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

অ্যালান মিলবার্ন বলেন, ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং অন্যান্য সেবা সংস্থাগুলোর উচিত একদম প্রাথমিক পর্যায়েই হস্তক্ষেপ করা। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ভিন্ন ও সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া জরুরি।’

অ্যালান মিলবার্ন আরও বলেন, যখন একজন তরুণ সরকারের কল্যাণ ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন তা মূলত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নীতির সার্বিক ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যে করোনা মহামারির পর থেকে স্কুলে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৩ লাখে পৌঁছেছে।

অ্যালান মিলবার্নের অন্তর্বর্তীকালীন মূল্যায়নে দেখা গেছে, স্কুলে ক্রমাগত অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর কর্মহীন (নিট) হয়ে পড়ার ঝুঁকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ডে পরিচালিত একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে মিলবার্ন জানান, চার থেকে পাঁচ বছর বয়সে যে শিশুরা স্কুলে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে না, ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সে তাদের কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি।

দারিদ্র্য, মানসিক সমস্যা এবং পারিবারিক সুরক্ষার অভাব—এসব লক্ষণ দেখেই প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকি চিহ্নিত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের কাছে জমা হতে যাওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশটির কল্যাণ ভাতা (ওয়েলফেয়ার) ব্যবস্থায় সমন্বিত সংস্কারের আহ্বান জানানো হবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী: প্রাথমিক শিক্ষার শেষ দিকেই শিক্ষার্থীদের কর্মহীনতার ঝুঁকি শনাক্ত করার নির্দেশিকা জারি করা; বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় দেওয়া ‘পিউপিল প্রিমিয়াম’ তহবিলের অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের টিউটরিং ও মেন্টরিংয়ে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া; শুধু ভাতা কাটার কড়াকড়ি নয়, তরুণদের কাজের সুযোগ ও স্বাস্থ্যগত সহায়তা বাড়ানো।

আগামী শরৎকালে অ্যালান মিলবার্নের পর্যালোচনা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার তরুণদের কারিগরি শিক্ষা ও শিক্ষানবিস (অ্যাপ্রেনটিসশিপ) ব্যবস্থার সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)