বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বারান্দায় ক্লাস ছবি: বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরের বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠ গ্রহণ করছে। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ ছয় মাস আগে বিদ্যালয়ের দুটি ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম সংকটে চলছে পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের অভাবে কখনো পরিত্যক্ত ভবনে, আবার কখনো বারান্দায় বসেই ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
বেনাপোল বন্দর ও কাস্টম হাউসের সামনে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৫ সালে নির্মিত হয় ‘কবি নজরুল ইসলাম ভবন’ এবং ১৯৯৬ সালে ‘কবি জসিমউদ্দিন ভবন’। বর্তমানে দুটি ভবনই ব্যবহার অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক ও ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তত ১০টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন হলেও ব্যবহারযোগ্য রয়েছে মাত্র চারটি। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই শিফটে পরিচালনা করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের অভাবে বারান্দায় পাঠদান চলছে। কিছুদিন আগেও পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নেওয়া হলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তা বন্ধ করা হয়েছে। তবে জায়গার সংকট কাটেনি। এ অবস্থায় কয়েকজন স্থানীয় শিক্ষানুরাগী অস্থায়ীভাবে বাঁশ ও টিন দিয়ে কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, গত তিন দশকেও বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ তাদের।
বেনাপোলের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ মতিয়ার রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে ভবনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত অন্তত চারতলা একটি ভবন নির্মাণ জরুরি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টিতে আনা হয়েছে।
আরেক শিক্ষানুরাগী ও ব্যবসায়ী আলহাজ হাবিবুর রহমান হবি বলেন, ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখে স্থানীয়ভাবে বাঁশ ও টিন দিয়ে কয়েকটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বেদৌরা পারভীন বলেন, “শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বারান্দায় পাঠদান চলছে। বারবার নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তাগিদ দেওয়া হলেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ হলে কিছুটা সংকট কমবে।”
শার্শা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা বানু বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে আপাতত বারান্দায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।”
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।