নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার ‘মিনি ট্যুর ও ট্যালেন্ট ফেস্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬’ আজ বৃহস্পতিবার যশোরের জেস গার্ডেন পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার ‘মিনি ট্যুর ও ট্যালেন্ট ফেস্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬’। আজ বৃহস্পতিবার যশোরের জেস গার্ডেন পার্কে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণে ৫টি ভিন্ন বিষয়ে ‘প্রগতি ট্যালেন্ট ফেস্ট’ প্রতিযোগিতাটি সম্পন্ন হয়েছিল। আজকের আনন্দভ্রমণ শেষে সেই প্রতিযোগিতারই কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আলমগীর হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি নাজমুল হোসেন শিশুদের মেধা ও পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের সোনামণিরা যেভাবে তাদের প্রতিভা ফুটিয়ে তুলেছে, আমি নিজেই অভিভূত। প্রতিটি সন্তান যদি এভাবে মেধার বিকাশের সুযোগ পায়, তবে তারা একদিন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। আর এই বিকাশের জন্য প্রতিষ্ঠান ও পরিবার—উভয় পক্ষ থেকেই সমান সাপোর্ট থাকতে হবে।"
সন্তানদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখার আহ্বান জানিয়ে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "ছেলেমেয়েরা দুষ্টামি বা বাহানা করবেই, কিন্তু বাবা-মা হিসেবে আমাদের পজিটিভ অ্যাপ্রোচ করতে হবে, অন্যথায় তাদের মানসিকতা নষ্ট হতে পারে। প্রগতি আদর্শ মাদ্রাসা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নৈতিক ও মানবসম্মতভাবে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।" তিনি এই সুন্দর আয়োজনের জন্য মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল কে এম আশরাফুল ইসলাম তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, "এই মাদ্রাসায় আমার যোগদানের বয়স মাত্র আড়াই মাসের মতো। দায়িত্ব নিয়েই আমি অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করি। তাদেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছিল—বাচ্চাদের আনন্দের জন্য এবং অতিরিক্ত শিক্ষার অংশ হিসেবে এমন একটি সহশিক্ষা কার্যক্রমের আয়োজন করা। সেই চিন্তা থেকেই আমাদের এই আয়োজন।"
গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমেও অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "সিংহভাগ অভিভাবকের আগ্রহ ও পরামর্শের কারণেই আমরা এই মিনি ট্যুর ও পুরস্কার বিতরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই। আজ বাচ্চাদের আনন্দ ও প্রতিভা দেখে আমরা নিজেরাও আবেগাপ্লুত। সংক্ষিপ্ত হলেও এই প্রোগ্রাম থেকে সবাই যে অনুপ্রেরণা পেয়েছে, তা আগামী দিনে পিতা-মাতার চক্ষু শীতলকারী সন্তান তৈরিতে অনন্য ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।"