নিজস্ব প্রতিবেদক
নিহতের স্ত্রীর আহাজারি ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার ওদুদ খন্দকারের ছেলে জুয়েল রানা (৪০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দুই পা ভেঙে দিয়ে বর্বর কায়দায় পিটিয়ে জখম করার পর আজ দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত ওদুদ খন্দকারের ছেলে জুয়েল রানা উপজেলার মুক্তদাহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের সঙ্গে ওদুদ খন্দকারের ছেলে জুয়েল রানার বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে চৌগাছা থানার মুক্তদাহ মোড়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে একই গ্রামের ইউসুফ, কাশেম ও বাবুসহ আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। একপর্যায়ে পিটিয়ে তার দুই পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে দেওয়া হয়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন।
পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তির পর চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল রানা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করতেই হাসপাতালের করিডোরে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।