রোববার যশোরের সদরে ও চৌগাছায় ২টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এদেরমধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি বিষপানে এবং শেফা (১৮) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতাল ও স্জনদের সূত্রমতে, যশোর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দিনবিনোদিয়া পার্কে বিষপান করার পর জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। রোববার র (৭ জুন) বিকেলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত জাহাঙ্গীর হোসেন যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা ইউনিয়নের ঢাকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হারুন অর রশিদের ছেলে।
জানা গেছে, রোববার দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে জাহাঙ্গীর হোসেন যশোর ক্যান্টনমেন্টের দিনবিনোদিয়া পার্ক এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় তিনি বিষ জাতীয় কোনো পদার্থ পান করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পার্কে উপস্থিত লোকজন তার অস্বাভাবিক আচরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে জরুরি ভিত্তিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান শুরু করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। বিষপানের পেছনে কী কারণ ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, যশোরের চৌগাছায় স্বামীর উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শেফা (১৮) নামের এক গৃহবধূ। রোববার রাতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শেফা চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের খালিদ বিন ওয়ালিদের স্ত্রী। তবে ঘটনার সময় তিনি বাবার বাড়ি চৌগাছা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুঠিপাড়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন দুপুরে শেফা তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে অজ্ঞাত কারণে মনোমালিন্য ও রাগারাগি হয়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি অভিমানবশত নিজ শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে দ্রুত উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শেফার মৃত্যু হয়।
ধ্রুব/টিএম