নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
যশোরে অনলাইন জুয়া খেলার টাকা না পেয়ে জন্মদাত্রী মাকে মারধর, আসবাবপত্র ভাঙচুর ও টাকা চুরির অভিযোগে ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) যশোর শহরতলীর বিরামপুর কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও অভিযুক্তের মা রিনা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম অভিযোগটি গ্রহণ করে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, আসামি আবদুল্লাহ আল মামুন কোনো কাজকর্ম করেন না এবং দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। জুয়ার টাকার জন্য তিনি প্রতিনিয়ত মা-বাবার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। টাকা না দিলেই ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করা ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। কিছুদিন আগে কারোর অনুমতি না নিয়েই তিনি পারিবারিক দুটি ছাগল বিক্রি করে জুয়ার পেছনে উড়িয়ে দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাড়ি ফিরে পুনরায় জুয়া খেলার টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন মামুন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাঁশের লাঠি দিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ও তৈজসপত্র ভাঙচুর শুরু করেন তিনি। এ সময় মা রিনা বেগম বাধা দিতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের একপর্যায়ে বেধড়ক মারধর করে আহত করা হয়। পরবর্তীতে ঘরে থাকা গচ্ছিত ৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান মামুন। স্বজনরা চিৎকার শুনে এসে রিনা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী মা উল্লেখ করেন, বখাটে ছেলের এমন সহিংস আচরণে পুরো পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির ভয়ে বাধ্য হয়ে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার স্বার্থে ছেলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।