নিজস্ব প্রতিবেদক
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রাফসান জানীকে ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে যশোরে মামলা হয়েছে। বুধবার যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানার আদালতে ভুক্তভোগী চিকিৎসক বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজহারে ১০ জন আসামিকে ‘সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান সোহাগ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এজহারে অভিযুক্ত ১০ জন হলেন— স্বদেশ বিচিত্রার আসিফ আকবর সেতু, ডিবিসি নিউজ টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি সাকিরুল কবীর রিটন, এশিয়ান টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি হাসিবুর রহমান শামীম, নাগরিক ভাবনার উপজেলা প্রতিনিধি জকির হোসেন, অনলাইন কলম কথার সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী, এসএম তাজাম্মুল, আব্দুল হাই, নুর ইসলাম নাহিদ, তহিদুল ইসলাম এবং দৈনিক অভয়নগরের প্রতিনিধি ইসমাইল।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার রাফসান জানীর ১৭ বছর বয়সী শ্যালিকা পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু আবেগপ্রবণ পোস্ট করেন। এই ঘটনাকে পুঁজি করে আসামীরা চিকিৎসককে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করেন।
গত ৮ মার্চ আসিফ আকবর সেতু ওই চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে তার শ্যালিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ রাতে এশিয়ান টিভির অফিসে সাকিরুল কবীর রিটন ও হাসিবুর রহমান শামীমসহ অন্য আসামিরা চিকিৎসকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে চাকরিচ্যুত করা এবং ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক নামধারী এই চক্রটি নাবালিকা শ্যালিকাকে প্ররোচিত করে তহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রাখেন। সেখানে তাকে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে চাপ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৭ মার্চ পর্যন্ত মেয়েটিকে থানায় আটকে রেখে মিথ্যা বয়ান দিতে বাধ্য করা হয়। এই সময় আব্দুল হাই নামে এক ব্যক্তি মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চিকিৎসকের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন, যার অডিও রেকর্ড বাদীর কাছে সংরক্ষিত আছে।
আসামিদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে চিকিৎসকের শ্যালিকা সামিয়া আফরোজ প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও ফুসলিয়ে তার দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করানো হয়েছিল। মূলত অর্থ আদায়ের লক্ষ্যেই সাংবাদিক নামধারী এই চাঁদাবাজ চক্রটি তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।
ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডাক্তার রাফসান জানী জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও কল রেকর্ড সংগ্রহ করতে সময় লাগায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।