ক্রীড়া ডেস্ক
কালেব ইয়ারেঙ্কির একমাত্র গোলেই পানামার বিপক্ষে জয় পায় ঘানা ছবি: রয়টার্স
বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের হয়ে গোল করা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই এক অবিশ্বাস্য স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন যখন সত্যি হয় এক সাধারণ কাঠমিস্ত্রির ঘরে, তখন তা রূপ নেয় এক মহাকাব্যিক গল্পে। ঠিক এমনটাই ঘটিয়ে দেখিয়েছেন ঘানার তরুণ ফরোয়ার্ড কালেব ইয়েরেঙ্কি। তার একমাত্র গোলেই পানামাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করেছে ঘানা।
বাবার ওয়ার্কশপ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চ
কালেব ইয়েরেঙ্কির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার বাবার এক দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের গল্প। ঘানার বেখেম শহরের এক সাধারণ কাঠমিস্ত্রি তিনি। ছেলেকে বিশ্বমঞ্চে খেলার উপযোগী করে তুলতে জীবনের সিংহভাগ সময় পার করেছেন হাড়ভাঙা খাটুনি আর চরম স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে।
আজ সেই পরিশ্রমের ফল হাতেনাতে পেয়েছেন এই গর্বিত বাবা। ম্যাচের দিন সকালেই নিজের কাঠমিস্ত্রির ওয়ার্কশপের সামনে ছেলের একটি বড় ব্যানার টাঙিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল একটাই— দূর প্রবাসে থাকা ছেলেকে নিজের মতো করে সমর্থন জানানো। আর বাবার সেই ভালোবাসার প্রতিদান ছেলেও দিয়েছেন মাঠের পারফর্ম্যান্স দিয়ে।
কালেব ইয়ারেঙ্কির বাবার ওয়ার্কশপের সামনে টানানো তার ব্যানার/ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অন্যতম সুখী বাবা
ম্যাচ শেষে ইয়েরেঙ্কির বাবার আনন্দ অশ্রুই বলে দিচ্ছিল তার অনুভূতির কথা। যে বাবা একদিন ছেলের পায়ে ফুটবল তুলে দিতে গিয়ে হাজারবার হিসাব কষেছেন, আজ তার ছেলেই পুরো দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ও গর্বিত বাবাদের একজন।
কঠিন বাস্তবতা আর দারিদ্র্যকে জয় করে ইয়েরেঙ্কির এই উত্থান কেবল ঘানার ফুটবল ভক্তদেরই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। একজন সাধারণ শ্রমিকের ছেলে হয়েও মেধা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে বিশ্বজয় করা সম্ভব, কালেব ইয়েরেঙ্কি যেন আবারও সেটাই প্রমাণ করলেন।