Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ইংল্যান্ড ৪–২ ক্রোয়েশিয়া, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা ম্যাচ

ক্রীড়া ডেস্ক ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন,২০২৬, ০৫:২৭ এ এম
ইংল্যান্ড ৪–২ ক্রোয়েশিয়া, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সেরা ম্যাচ

পোস্টে দুর্দান্ত খেলে দারুণ কিছু সেভ করেন ক্রোয়াট গোলকিপার লিভাকোভিচ ছবি: সংগৃহীত

ডালাসে ছয় গোলের রোমাঞ্চের পর প্রশ্নটি উঠতে পারে। হলিউডের অনেক ‘থ্রিলার’ সিনেমারই শুটিং-স্পট যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের এ শহর। সেখানে ডালাস স্টেডিয়ামে রীতিমতো থ্রিলারই উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ। আর সেই থ্রিলারের ‘নায়ক’ জোড়া গোল করা হ্যারি কেইন।

প্রথমার্ধে দুবার এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ক্রোয়েশিয়াও দুবারই গোল শোধ করে টেনে ধরেছে ইংল্যান্ডকে। বিরতির পর আর পারেনি। এই অর্ধে আরও দুই গোল করে ৪-২ ব্যবধানের দারুণ জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ইংল্যান্ড। কোচ টমাস টুখেলের শিষ্যরা যেভাবে খেলেছে, তাতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষেই ইংল্যান্ডের সমর্থকরা গান ধরতে পারেন, ‘ইটস কামিং হোম!’

আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণে ইংল্যান্ডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারেনি ক্রোয়াটরা। গতি, বল নিয়ন্ত্রণ ও খেলা তৈরিতে দারুণ ফুটবল খেলেছেন জুড বেলিংহাম-ননি মাদুয়েকেরা। ক্রোয়েশিয়া প্রথমার্ধে যতটুকু কেইনদের চোখে চোখ রেখে জবাব দিতে পেরেছে। বিরতির পর ধীরে ধীরে ধার কমেছে তাঁদের আক্রমণের। এই অর্ধে দুই দলই বক্সে জটলার ভেতর থেকে কয়েকটি গোল করার সুযোগ পেয়েছিল। হয় গোলকিপারের অবিশ্বাস্য দক্ষতা কিংবা সামনে ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে পড়ায় আরও বেশি গোল হয়নি।

কয়েকটি ছোট্ট পরিসংখ্যানেই দুই দলের খেলার ধাঁচটা বোঝা যায়। ২২টি শট নিয়েছে ইংল্যান্ড, পোস্টে রাখতে পেরেছে ১১টি শট। তাদের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড তিনটি দারুণ সেভ করেন। এর মধ্যে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে খুব কাছ থেকে একটি নিশ্চিত গোলের শট ঠেকান। মাঠের অন্য প্রান্তে পিকফোর্ডের চেয়ে বেশি ব্যস্ততায় সময় কাটে ক্রোয়াট গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচের। ৭টি সেভ করেন!

 

কিন্তু কেইনের ‘বৈধ’ পেনাল্টিটি লিভাকোভিচ ঠেকাতে পারেননি। ছয় গোলের দরজাটা খুলে যায় ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কেইনের ওই প্রথম গোলের পরই। তবে পেনাল্টির এই প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে রয়েছে ৪০ বছর বয়সী চিরসবুজ মিডফিল্ডার লুকা মদরিচের ব্যর্থতা। ক্রোয়াটদের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ারের ৫ম বিশ্বকাপে খেলতে নামা মদরিচ বক্সের ভেতর বল ‘ক্লিয়ার’ করতে গিয়ে ফরোয়ার্ড মাদুয়েকের ঊরুতে লাথি মেরে বসেন। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

কিন্তু পেনাল্টি শটে কেইনকে রুখে দেন লিভাকোভিচ। ভিএআরের হস্তক্ষেপে দেখা যায়, কেইন শটটি নেওয়ার আগেই গোল লাইন থেকে সরে গিয়েছিলেন লিভাকোভিচ। অতএব, আবারও পেনাল্টি শট নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি এবং এ যাত্রায় কেইন লক্ষ্যভেদ করতে আর ভুল করেননি।

টাইব্রেকারের শুটআউট বাদে বিশ্বকাপে পেনাল্টি থেকে সবচেয়ে বেশি গোল এখন কেইনের (৫)। এ তালিকায় লিওনেল মেসি, ইউসেবিও, রব রেনসেনব্রিঙ্ক ও গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুকে পেছনে ফেললেন কেইন। এই চারজনের গোল ৪টি করে।

ক্রোয়েশিয়া সমতায় ফিরতে সময় নিয়েছে ২৪ মিনিট। ক্রোয়াট মিডফিল্ডার মার্তিন বাতুরিনা বক্সের বাইরে থেকে দারুণ কোনাকুনি শটে ৩৬ মিনিটে গোল করেন। জমে ওঠে ম্যাচ।

কারণ, দুই দলই আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত ছিল। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে হেডে দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন। ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, দুই দলের মধ্যে কেইন সেরা হেডার হওয়ার পরও বক্সে কীভাবে আনমার্কড থাকেন!

সেটা ক্রোয়াট রক্ষণের সমস্যা। কেইন ততক্ষণে ইতিহাসের আরেক পাতায়। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় শীর্ষস্থানটি গ্যারি লিনেকারের সঙ্গে ভাগ করে নেন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার। লিনেকার ও কেইন—দুজনেরই বিশ্বকাপে ১২ ম্যাচে গোলসংখ্যা ১০টি।

ইংল্যান্ড ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়ান পেরিসিচ-বাতুরিনারা। সে ধারাতেই ক্রোয়েশিয়া আবারও সমতায় ফেরে প্রথমার্ধে যােগ করা সময়ের ৫ মিনিটে। বক্সে উড়ে আসা বল ফরোয়ার্ড ইভান পেরিসিচ হেড করে সামনে ফেললে দারুণ শটে সমতাসূচক গোল করেন আরেক ফরোয়ার্ড পেতার মুসা।

ক্রোয়েশিয়া ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফেরার পর ইংল্যান্ডকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট এনে দেওয়ার চ্যালেঞ্জটা নেন মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। বিরতির পরপরই ৪৭ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে অ্যাস্টন মার্টিনের গতিতে ছুটে কোনাকুনি শটে দারুণ গোল করেন রিয়াল তারকা। বদলি নামা স্ট্রাইকার মার্কাস রাশফোর্ড নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন।

জয়ের পর ইংল্যান্ড তারকা কেইন বলেন, ‘ম্যাচটা দুই অর্ধে দুই রকম হয়েছে। প্রথম অর্ধে আমরা মোটামুটি ঠিকঠাকই খেলছি। কিন্তু যেভাবে গোল হজম করেছি, তা সত্যিই হতাশাজনক; মনে হয়েছে কিছুটা হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

ইংল্যান্ডের হয়ে ১১৫ ম্যাচে ৮১ গোল করা কেইন এরপর জানিয়েছেন দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য, ‘কৃতিত্ব পাওনা কোচের। বিরতিতে তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে দারুণ বক্তব্য দেন। বলেছিলেন, যদি আমাদের হারতেই হয়, তবে যেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে হারি। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্সেই সেটার প্রতিফলন দেখা গেছে। আমরা পুরো শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি এবং ওরা আমাদের সেই গতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনি।’

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)