ক্রীড়া ডেস্ক
৮৮ মিনিটে কাই হাভার্টজ নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করলে জার্মানির ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় ছবি: ফিফা
ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'ই'-এর ম্যাচে কুরাসাওয়ের মুখোমুখি হয়েছিল ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি জার্মানি। মাঠের লড়াইয়ে কুরাসাওকে কোনো পাত্তাই দেয়নি জার্মানরা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ৭-১ গোলের এক বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষস্থান (১ম) আরও মজবুত করলো জার্মানি।
প্রথমার্ধের দাপট ও গোলের মহোৎসব
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় জার্মানি। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই ফেলিক্স নমেচার গোলে লিড নেয় তারা। অবশ্য ম্যাচের ২১ মিনিটে কুরাসাওয়ের পক্ষে লিভানো কমেনেন্সিয়া একটি গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে জার্মানদের রুখে দেওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেক গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+৫ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান কাই হাভার্টজ। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় জার্মানি।
দ্বিতীয়ার্ধের গোলবন্যা
বিরতি থেকে ফিরেই আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে জার্মানির আক্রমণভাগ। ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা দলের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন। এরপর ৬৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউন এবং ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ জালের ঠিকানা খুঁজে নিলে কুরাসাও ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৮৮ মিনিটে) কাই হাভার্টজ নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলটি করলে জার্মানির ৭-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত হয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান যা বলছে
পুরো ম্যাচে জার্মানির একক আধিপত্যের প্রমাণ মেলে ম্যাচ স্ট্যাটস বা পরিসংখ্যানেও:
বল পজিশন: জার্মানির নিয়ন্ত্রণে ছিল ৬৫% বল, যেখানে কুরাসাওয়ের দখলে ছিল ৩৫%।
শট ও শট অন টার্গেট: জার্মানি মোট ২৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ১১টিই ছিল অন টার্গেট। অন্যদিকে কুরাসাও ৬টি শটের মধ্যে মাত্র ২টি অন টার্গেট রাখতে পেরেছে।
পাস ও পাস অ্যাকুরেসি: জার্মানরা ৫৯৯টি পাস খেলেছে ৮৯% অ্যাকুরেসির সাথে। কুরাসাওয়ের পাস ছিল ২৮৯টি (৮৪% অ্যাকুরেসি)।
কর্নার: জার্মানি আদায় করে নিয়েছে ৮টি কর্নার, বিপরীতে কুরাসাও পেয়েছে মাত্র ১টি।
পুরো ম্যাচে কোনো দলই কোনো ইয়েলো বা রেড কার্ড দেখেনি। ফাউলের দিক থেকে জার্মানি ১৬টি এবং কুরাসাও ১০টি ফাউল করেছে। এই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর জার্মানিকে নিয়ে গ্রুপ পর্বে বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছেন তাদের সমর্থকরা।