ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ছবি: সংগৃহীত
ওয়ানডে ক্রিকেটের আসল রোমাঞ্চ কাকে বলে, তা যেন আরও একবার দেখাল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। শেষ ওভারের চরম উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ভরা ম্যাচে বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তবে শেষ ম্যাচটি অজিরা জিতলেও প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজটি নিজেদের ঘরে তুলেছে বাংলাদেশ।
হৃদয়ের ব্যাটিং ও লিটনের অপরাজিত ফিফটি
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের শুরুটা ভালো না হলেও মিডল অর্ডারে হাল ধরেন লিটন দাস এবং তাওহীদ হৃদয়। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা তাওহীদ হৃদয় ৮৮ বলে ৮টি চারের সাহায্যে সাজানো ৮৩ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলে বেন ডোয়ারশুইসের শিকার হন।
অন্যপ্রান্তে উইকেট আগলে রেখে ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৮ রান করে অপরাজিত থাকেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাস। শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেন ৫১ বলে ৫৬ রানের একটি ঝড়ো অপরাজিত ইনিংস খেললে বাংলাদেশ ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জাভিয়ের বার্টলেট এবং ম্যাট রেনশ ২টি করে উইকেট নেন।
কনোলির অনবদ্য সেঞ্চুরি ও শরিফুলের ফাইফার
২৭৫ রানের টার্গেটে তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশি বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান কুপার কনোলি। তিনি মাত্র ১৩৪ বলে ১৩টি চার এবং ৬টি ছক্কার সাহায্যে ১৪৯ রানের এক বিধ্বংসী ও ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন। শেষপর্যন্ত মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হওয়ার আগে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান তিনি।
বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে একাই লড়াই করেন পেসার শরিফুল ইসলাম। তিনি ১০ ওভারে মাত্র ৪৮ রান খরচ করে তুলে নেন ৬টি উইকেট (ফাইফার)। শরিফুলের এই ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের কল্যাণে ম্যাচটি একদম শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ায়।
শেষ ওভারের চরম নাটকীয়তা
জয়ের জন্য শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র কয়েক রান, হাতে ছিল ১ উইকেট। ৪৯.৩ ওভারে অ্যাডাম জাম্পা ও রাইলি মেরিডিথের দারুণ দক্ষতায় ৩ বল বাকি থাকতেই ৯ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
১ উইকেটের এই জয়ে অস্ট্রেলিয়া হোয়াইটওয়াশ এড়াতে সমর্থ হলেও, ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে শান্তর বাংলাদেশই। ওয়ানডে ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরও একটি সোনালী অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে।