ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে 'বিচ্ছিন্ন বিষয়' বলছে র্যাব।
এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, সেখানে পুলিশ 'টার্গেট ছিল না'।
আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় শনিবার রাতে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে তাদেরই এক গেঞ্জি কারখানায় ঢুকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
এরপর 'হামলার মূলহোতা' প্রাইভেট কার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ।
পরে রোবাবর রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে এজাহারনামীয় ৪ জনকে ও আমিনবাজার থেকে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মুন্সিগঞ্জ থেকে র্যাব-১০ এর হাতে গ্রেপ্তার চারজন হলেন- আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরান। আর আমিনবাজার থেকে র্যাব-৪ এর হাতে গ্রেপ্তার চারজন হলেন- নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম।
এ বিষয়ে জানাতে সোমবার ঢাকার কারওয়ানবাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে আসেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, "চার জনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই এবং চারজনকেই আমরা বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি।
"একই ঘটনায় র্যাব-৪ আরো চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলে আমরা এজাহার নামীয় মোট ১৫ জনের মধ্যে র্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।"
ঘটনার বিবরণে র্যাব বলছে, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন ওই গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
ওই সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
“পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়।
“এরপর তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।”
র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আপন এবং জিহাদ ‘অত্যন্ত অপরাধী প্রবণ হয়ে উঠেছিল’।
“তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং মাদকের সাথে তারা সম্পৃক্ত।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিলেন না। কারণ আলতাফ হোসেন উনি এসবিতে চাকরি করেন বা করতেন এবং উনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন।
"তিনি পুলিশ এবং সাথে একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে একটা মানবিক কাজ মনে করেছেন, একজন বৃদ্ধ মানুষকে যখন আঘাত করা হচ্ছিল। সেই ব্যক্তি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক, তখন মানবিকভাবে প্রথমে সেটাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন তিনি। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা।"
হামলাকারীরা প্রত্যেকেই ‘নেশাগ্রস্ত ছিলেন’ জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন এটি 'মূল বিষয়'।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, "হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট এবং মাদক সংক্রান্ত এটা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে ওখানে আলতাফের উপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওখানকার গ্যাংয়ের মূল হোতা বলা যায়, তার বিরুদ্ধে তিনটা মাদক মামলাও আমরা পেয়েছি। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় চরমভাবে আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নেয়।"
এ সময় র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজাজামান ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ না, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে।”
এছাড়া কোনো সমস্যা হলে নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা ও ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তার কথায় এ ধরনের মানসিকতা মানুষের 'নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।