বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের বাঘারপাড়ায় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের বাঘারপাড়ায় মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়দের এই কঠোর অবস্থানে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
“মাদককে না বলুন, নিজেকে সুস্থ রাখুন”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলার দোহাকুলা, বাউলিয়া, মামুদালীপুর ও বালিয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে সামাজিক আন্দোলন। সচেতন এলাকাবাসী দলবদ্ধভাবে মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে নজরদারি চালাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে মাদক ব্যবসায়ীদের এলাকা ছেড়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে।
এরই অংশ হিসেবে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় দোহাকুলার বিশ্বাসবাড়ী মোড়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘দোহাকুলা সামাজিক অপরাধ ও মাদকবিরোধী নাগরিক কমিটি’র উদ্যোগে সামাজিক অপরাধ ও মাদক নির্মূল বিষয়ক এই সভার আয়োজন করা হয়। ধলগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও দোহাকুলা বিশ্বাসপাড়ার কৃতী সন্তান সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিক্ষক মাস্টার গোলাম দস্তগীর।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সমাজসেবক বাবর আলী বিশ্বাস, শিক্ষক মাস্টার সেলিম রেজা, বিশিষ্ট সমাজসেবক আনোয়ার হোসেন, সমাজসেবক জয়নাল আবেদীন, সমাজসেবক সৈয়াব আলী, সমাজসেবক হুমায়ুন কবির, সমাজসেবক বাহারুল ইসলাম, সমাজসেবক জামান বিশ্বাস সংগ্রাম, সমাজসেবক লাভলুর রহমান, সমাজসেবক বাবলুর রহমান, ধলগ্রাম ইউপি সদস্য ফিরোজ হাসান ভুট্টো, ছাত্রদল নেতা হৃদয় তারেক, ছাত্রদল নেতা তুষার আল মামুন, ছাত্রদল নেতা তাসকিন তানহা নাঈম, স্থানীয় নেতা বাহারুল চাকলাদার ও স্থানীয় ব্যক্তিত্ব মনির উদ্দিনসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
সভায় বক্তারা বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে আর কোনো ধরনের সামাজিক ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা, সামাজিক প্রতিরোধ এবং আইনগত ব্যবস্থা একযোগে চলবে।”
বক্তারা আরও বলেন, “যারা এখনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য এটি শেষ সতর্কবার্তা। অবিলম্বে এই অপকর্ম থেকে সরে না এলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণও তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। কোনো অবস্থাতেই মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।”