ঈদ ঘিরে ছিল অনেক পরিকল্পনা। দুই সন্তানকে নিয়ে নরসিংদী শহরে নতুন জামা কিনতে গিয়েছিলেন সুজন মিয়া। স্ত্রী সাথী বেগমের মুখেও ছিল ঈদের হাসি। বাজার শেষে নতুন জামা হাতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু সেই আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে। নরসিংদী রেলস্টেশনে দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ হারান সাথী। তার ছোট ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেনও মারা যায়। মুহূর্তেই ভেঙে যায় দিনমজুর সুজন মিয়ার সংসার।

মেয়ে ও মাকে নিয়ে শুধুই কাঁদছে সুজনি মিয়া- সংগৃহীত
শুক্রবার বিকেলে শিবপুর উপজেলার কারারচরে সুজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শুধু কান্না আর নিস্তব্ধতা। ঘরের এক কোণে বসে নতুন জামাকাপড় বুকে চেপে ধরে কাঁদছিলেন সুজন। পাশে তার ছোট মেয়ে। বাবার কান্না দেখে সেও বারবার কেঁদে উঠছিল।
সুজন মিয়া কখনও ইজিবাইক চালান, কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। অভাবের সংসার হলেও ঈদে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন তিনি।
আশ্রুসিক্ত সুজন বলেন, ‘চোখের সামনে অবুঝ ছেলে আর তার মাকে হারাইলাম। ট্রেন আসতেছে দেখে চিৎকার করছি, আটকানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু বাঁচাইতে পারি নাই।’ তিনি বলেন, ‘স্ত্রী-ছেলেকে হাসপাতালে নিলাম। ডাক্তার কইল, তারা আর নাই। নতুন জামা কিনছিলাম ঈদের জন্য। এখন এই গুলাই আমার কষ্ট।’
দেড় বছরের সাফওয়ান ছিল পরিবারের সবার আদরের। ঈদের আগে নতুন জামা পেয়ে শিশুটি খুব খুশি ছিল। কিন্তু সেই জামা পর ঈদ করা হলো না তার। এখন ঘরের এক পাশে পড়ে আছে তার নতুন জামা।
পুটিয়া ইউনিয়নের সদস্য রতন মিয়া বলেন, ‘সুজন খুব গরিব। দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালায়। ছোট একটা পরিবার ছিল তার। স্ত্রী-ছেলেকে হারিয়ে সে একেবারে ভেঙে পড়েছে।’
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ জানায়, স্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করছিল। রেললাইনের ওপর থাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলে ছিটকে পড়ে মারা যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে মধ্য কারারচর সাইফুল ইসলাম হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় মা ও ছেলেকে।