❒ যুক্তরাষ্ট্রে নিহত পিএইচডির শিক্ষার্থী
ধ্রুব ডেস্ক
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মর্জিনা আক্তার ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয়া শাবাব যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির দেশের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন । সোমবার বেলা দুইটার দিকে বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায় যান তারা।
এ সময় বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন, মো. ওবায়দুর রহমান, খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদল ব্যাপারীসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন ঢাকায় থাকায় তার সঙ্গেও মুঠোফোনে কথা বলে তিনি সমবেদনা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার বৃষ্টির ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য খুবই বেদনাদায়ক। পরিবারটির পাশে আমরা আছি, সেই সমবেদনা জানাতে আমরা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে এসেছি। পরিবার পরিজন যারা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃষ্টির আমাদের মেয়ে, তার এমন মৃত্যু সবাইকে ব্যথিত করেছে।
জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার বৃষ্টির ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য খুবই বেদনাদায়ক। পরিবারটির পাশে আমরা আছি, সেই সমবেদনা জানাতে আমরা বৃষ্টির গ্রামের বাড়িতে এসেছি। পরিবার পরিজন যারা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। বৃষ্টির আমাদের মেয়ে, তার এমন মৃত্যু সবাইকে ব্যথিত করেছে। বৃষ্টির বাবার সঙ্গে আমরা ফোনে কথা বলে তার অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বৃষ্টির লাশটি পাওয়া যায়নি। লাশ পাওয়া গেলে দেশে আনতে তিনি আবেদন করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’
মর্জিনা আক্তার আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বৃষ্টির ব্যবহৃত জিনিসপত্র যেন তার বাবা ফেরত পান সে বিষয়টিও আমরা দেখছি। কারণ, বৃষ্টির ব্যবহৃত জিনিসগুলোই তার পরিবারের কাছে স্মৃতি হয়ে থাকবে। আসলে মেয়ে চলে গেছে, এখানে মা-বাবার কষ্টের তো শেষ নাই। আমরা তাদের পাশে আছি। তাকে আমাদের প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজধানীর মিরপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। রাজধানীতে একটি বেসরকারি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। বৃষ্টি ভাই-বোনের মধ্যে ছো্ট। বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।
আজ দুপুরে বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ডিসি সাহেব আমাদের গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। আমি ঢাকা থেকে মাদারীপুর গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ ও দেখা করতে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি সমবেদনা জানিয়ে বৃষ্টির সম্পর্কে খোজখবর নিয়েছেন।’
ফ্লোরিডা পুলিশ এখনো বৃষ্টির লাশের সন্ধান পায়নি উল্লেখ করে জহির উদ্দিন আরও বলেন, ‘তারা আমাদের অফিশিয়ালি কিছু জানায়নি। আমি অন্য মাধ্যমে জেনেছি, তারা একটি লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেছে, সেটি তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। পুলিশ সম্ভাবনার কথা বলেছে। তারা শিগগিরই নিশ্চিত হয়ে কিছু একটা জানাবে। তবে এখন পর্যন্ত বৃষ্টির লাশ কোথায় আছে, কীভাবে তাকে হত্যা করেছে, কোনো কিছুই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সংস্থা জানতে পারিনি। আমাদের এখন শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে।’
বৃষ্টির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিরপুরের নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) নিয়ে এসএসসি পাস করেন নাহিদা সুলতানা। পরে শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকেও জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। তবে স্নাতকোত্তর শেষ করার আগেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফুল স্কলারশিপে পিএইচডি করার সুযোগ পেলে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বৃষ্টি।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোজ হন বৃষ্টি ও তার সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমন। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন। অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল।
গত শুক্রবার নিখোঁজ শিক্ষার্থী লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। ফ্লোরিডার হিলসবরোর স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায়। তাদের নিখোঁজের ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের ২৬ বছরের আমেরিকার এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি জামিলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। তবে হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে।
ধ্রুব/এস.আই