নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে যশোরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের মানুষ।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রথম শ্রদ্ধা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপি নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এরপর জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এছাড়াও জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই সময় উপস্থিত ছিলেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করেন।
পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় তারা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। শহীদদের এই আত্মত্যাগ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা জোগায়। দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে একুশের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার এলাকায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এদিকে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই প্রভাতফেরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন ব্যানারে দলে দলে মানুষ আসছে শহীদ মিনারে। ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।