Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ভারতীয় চালে ক্যানসারের উপাদান ‘আফলাটক্সিন’, ১৩৫ টনের চালান স্থগিত

ধ্রুব নিউজ ডেস্ক ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর,২০২৬, ০৪:১২ পিএম
আপডেট : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর,২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
ভারতীয় চালে ক্যানসারের উপাদান ‘আফলাটক্সিন’,  ১৩৫ টনের চালান স্থগিত

প্রতীকী ছবি ছবি: ফ্রিপিক

ভারত থেকে আমদানিকৃত সরকারি চালের নমুনায় মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান 'আফলাটক্সিন'-এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর থেকেই চট্টগ্রাম ও ঢাকার সরকারি গুদামগুলোতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ওই চালানের অবশিষ্টাংশ ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গত ২১ জুলাই প্রায় ১০ হাজার ৮৭৮ টন চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ে।

পরবর্তী সময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পরীক্ষায় চালগুলো মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে ছাড়পত্র পেলে তা খালাস করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের বিভিন্ন সরকারি গুদামে পাঠানো হয়। তবে গুদামে পৌঁছানোর পর চালের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। চালের একটি অংশ নিম্নমানের ও খাওয়ার অনুপযোগী হওয়ায় বন্দর থেকেই ১ হাজার ৩৭৮ টন চাল ফেরত পাঠানো হয়। বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চাল গুদামে সংরক্ষণ করা হয়।

গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপোর (সিএসডি) চালের স্তূপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) একটি প্রতিনিধিদল। ল্যাব পরীক্ষায় সেই চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

এ বিষয়ে ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরীন আক্তার জাহান জানান, দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত চালে আফলাটক্সিন জন্মাতে পারে। বর্তমানে নমুনায় যে মাত্রা পাওয়া গেছে তা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও, এই মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এদিকে, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশেই পরবর্তী ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত চাল বিতরণ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান এবং চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক রেজওয়ান সাকিব চাল বিতরণ স্থগিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে রাজি হননি খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

চালের নমুনায় বিষাক্ত উপাদান পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানের দাবি, বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও সরবরাহকারীদের যৌথ উদ্যোগে সংগৃহীত নমুনা ভারতের একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তা চুক্তির সব শর্ত শতভাগ পূরণ করেছিল।

তাদের ভাষ্যমতে, ব্রির সিলগালা করা যৌথ নমুনায় কোনো আফলাটক্সিন মেলার তথ্য তাদের জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়েছে উল্লেখ করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের শিপিং এজেন্ট ‘সেভেন সিজ শিপিং লাইনিং’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আকবর অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তার মতে, এমন অনভিপ্রেত ঘটনা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে খাদ্য আমদানিতে আগ্রহ হারাবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রাথমিক ছাড়পত্র পাওয়ার পর গুদামে এসে আফলাটক্সিন শনাক্ত হওয়া এবং দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে গোটা প্রক্রিয়াটি নিয়ে গভীর ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত এই জটিলতার অবসান ঘটিয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)