ধ্রুব ডেস্ক
❒ খনন করা গর্ত থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে যে নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশুটি সেখানে প্রবেশের চেষ্টা চলছে ছবি: সংগ্রহীত
দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধার করতে রাতভর খননকাজ চালিয়েও তার সন্ধান মিলেনি। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে যায় ওই শিশু।
মাটি সরিয়ে ৩৫ ফুট গভীর করার পরও শিশুটির অবস্থান শনাক্ত না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস আবারও খননকাজ শুরু করেছে। নতুনভাবে পাইপ ও সার্চ ভিশন ব্যবহার করে শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, “শিশুটি যে গর্তে পড়ে গেছে তার পাশেই এস্কেভেটরের মাধ্যমে ৩৫ ফুট গভীর খনন করা হয়েছে। এখন ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ টিম খনন করা সেই গর্তে সুড়ঙ্গ করছে।
“সুড়ঙ্গ করার পর ওই গর্তে যদি শিশুটিকে পাওয়া না যায়, তাহলে আর খনন করা সম্ভব হবে না। তখন ওই গর্ত থেকেই অন্য কৌশলে শিশুটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হবে। কারণ এই নলকূপের গভীরতা ১৫০ থেকে ২০০ ফুট।”
নলকূপের ভেতরে যেকোনো জায়গায় শিশুটি আটকে রয়েছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে তানোরের পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে বাড়ির পাশে বিলে যাওয়ার সময় একটি পরিত্যক্ত গভীর নকলকূপের গর্তে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে প্রথমে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এসে ভেন্টিলেশন দেয়।
এরপর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আরও দুই ইউনিট গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রথমে সার্চ ভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে গভীর নলকূপের গর্তে শিশুটির অবস্থান বোঝার চেষ্টা করে। ৩৫ ফুট গভীরে শিশুটির অবস্থান না পাওয়ায় পাশেই এস্কেভেটরের দিয়ে রাতভর খনন কাজ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মো. মঞ্জিল হক বলেন, “৩৫ ফুট পর্যন্ত খনন করেও শিশু সাজিদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপর গর্তে একটি পাইপ ঢোকানো হলেও নির্দিষ্ট গভীরতার পর তা আর নিচে নামছে না। পাইপের নিচে কী আটকে আছে তা নিশ্চিত হতে সার্চ ভিশন লাইট ব্যবহার করা হবে।” তিনি বলেন, পাইপের গোড়ায় পিলার ব্যালান্সিং করতে আবারও এস্কেভেটর দিয়ে মাটি সরানো হচ্ছে। আপাতত এস্কেভেটর দিয়ে খনন শেষ হয়েছে। এখন খনন করা গর্ত থেকে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে শিশুটি যে নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা চলছে।