ধ্রুব ডেস্ক
জিসান আহমেদ প্রধান ছবি: সংগৃহীত
নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান আহমেদ প্রধানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জেলার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় জিসানকে অচেতন ও মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। রাতেই তাকে প্রথমে স্থানীয় লাকসাম হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান আহমেদ প্রধান দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদের সামনে এশার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার পর একটি গাড়িযোগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে চেতনানাশক খাইয়ে অবশ করায় তিনি আর কিছু মনে করতে পারছিলেন না।
তবে উদ্ধার হওয়া জিসানের এই অপহরণের দাবি নাকচ করে দিয়েছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন।
কুমিল্লার পুলিশ এসপি মো. আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ও অনৈতিক ঘটনার জেরে আইনি জটিলতা ও সামাজিক চাপ এড়াতে জিসান নিজেই আত্মগোপনের এই নাটক সাজিয়েছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, জিসানের আত্মগোপনে যাওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে এক তরুণী বাদী হয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ২০ মে জিসান দাউদকান্দিতে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধ প্রয়োগে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। ঘটনার পর তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দিলেও, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার তিনি মোবাইল ও ফেসবুক আইডি বন্ধ করে নিখোঁজ হন। জিসানের নিখোঁজের ঘটনায় তার চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ রাফি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী জানান, উদ্ধার হওয়া শিবির নেতা বর্তমানে পুলিশি তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত জিসান আহমেদ প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।