আমিনুর রহমান মামুন
প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের কালজয়ী গান 'চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও।
'অনুরোধ' চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৭৬ সালে গাজী মাজহারুল আনোয়ার এ গানের কথায় প্রেমিক হৃদয়ের যে বিরহ-ব্যাকুলতার প্রতিচ্ছবি একেছিলেন, সাবিনা ইয়াসমিন তার দরদভরাকণ্ঠ দিয়ে তাতে প্রাণের স্পন্দন সৃষ্টি করেছিলেন। যে স্পন্দন শুধু 'অনুরোধ' সিনেমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সুরকার সত্যসাহাও যেন প্রেমিক হৃদয়ের 'বিরহ-বেদনার' ব্যাকুলতা সুরের যাদুতে ফুটিয়ে তুলতে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে ছিলেন। সাবিনা ইয়াসমিন তার 'মমতাময়ী' কণ্ঠ দিয়ে সেই সুরে এতটাই মাদকতার প্রলেপ দিয়ে দেন, যে আশির দশকে যখন কোথাও 'চিঠি দিও প্রতিদিন, নইলে থাকতে পারব না' গানটি বাজতো, তা যেন হাজারো তরুণ-তরুণীর হৃদয়ে বিরহ-বেদনার তরঙ্গ সৃষ্টি করতো। গানের সাথে নিজেকে কল্পনায় রেখে ' অজস্র তরুণ হৃদয় গেয়ে উঠতো-
আমার আমি তোমার মাঝে
চিরতরেই হারিয়ে গেছে
বন্ধু, তুমি মোর সাধনা
চিঠি দিও প্রতিদিন, চিঠি দিও।

২.
তবে সেই যুগ আর নেই। সময়ের ব্যবধান আর প্রযুক্তির স্রোতে 'চিঠি' হারিয়ে গেছে। এখন আর কেউ কাউকে চিঠি লেখে না। ডাকবাক্সও তাই আর খোলা হয় না। কোথাও কোথাও এখনো 'ডাকবাক্স ' চোখে পড়লেও, তার হালহকিকত দেখলেই বোঝা যায় কতটা অনাদর-অবহেলার পাত্র সে। মরিচা পড়া জংধরা তালাটা দেখলেও বোঝা যায় কতদিন ধরে অনাবৃত তারা। তালা আর ডাক বাক্সের চেহারাই নিয়েই বরং এখন গাওয়া যায়
'তোমার মাঝে চিরতরেই হারিয়ে গেছে 'মানব হৃদয়ের বিরহ-বেদনা-ব্যাকুলতা। তাই এখন আর কেউ চিঠি দেয় না, গুনগুন করে গায় না-
'কোথায় থাকো, কেমন থাকো
একে একে সবই লিখো
সেই তো হবে মোর সান্ত্বনা
নইলে থাকতে পারবো না'
চিঠি দিও।
কেউ কাউকে এখন আর চিঠি দিক আর নাই দিক,
সত্যসাহার সুরে সাবিনা ইয়াসমিন 'চিঠি দিও প্রতিদিন' গানে যে মমতার 'টান' দিয়েছেন তা বাজতে থাকবে যুগ যুগ ধরে।
লেখক: সাংবাদিক