কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
কোটচাঁদপুর রেলওয়রে জায়গায় মাথাহীন আম বাগান। ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের সামনের দিকে চোখ পড়লে মনে হবে বেশ কিছু আমগাছ দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু একটু কাছে গেলেই খটকা লাগবে। দেখা যাবে—গাছগুলোর গুঁড়ি আর গোড়া ঠিকই আছে, কিন্তু ওপরের পুরো অংশই হাওয়া!
অভিযোগ উঠেছে, সুকৌশলে রেলওয়ের জায়গা থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি পুরোনো আমগাছের ওপরের ডালপালা ও গুঁড়ি কেটে গায়েব করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই বিপুল পরিমাণ কাঠ বাজারে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা পকেটে পুরেছেন হারেজ আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। তবে কেবল এই এক ব্যক্তির ওপর দায় চাপিয়ে হাত গুটিয়ে থাকার সুযোগ নেই। কারণ, সরকারি সম্পত্তি এভাবে দিনের পর দিন কাটা হলেও রেল কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।
আমগাছগুলো হুট করে একদিনে কাটা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই একে একে গাছগুলোর ওপরের অংশ সাবাড় করা হয়। কিন্তু সরকারি সম্পদ চোখের সামনে বেহাত হতে দেখেও যেন না দেখার ভান করে ছিলেন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ওপরের মহলের একধরনের দেখা-না-দেখার সুযোগ না থাকলে কিংবা নানা হাত ঘুরে সুবিধা না পৌঁছালে রেলওয়ের মতো জায়গায় প্রকাশ্যে এভাবে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হারেজ আলী বলেন, "আমি রেলওয়ের কাছ থেকে এই জমি লিজ নিয়েছি। গাছগুলো আমিই লাগিয়েছিলাম, তাই আমিই কেটেছি। এতে সমস্যার কিছু দেখছি না।"
কিন্তু লিজ নিলেই কি সরকারি জমির গাছ কেটে বিক্রি করা যায়? আইন কিন্তু তা বলে না। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, লিজগ্রহীতা হলেও নিজের ইচ্ছামতো সরকারি জমির গাছ কাটা বা বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। সরকারি জায়গায় থাকা যেকোনো গাছ কাটতে হলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনে বন বিভাগ ও রেল কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই লিজের অজুহাতে গাছ কাটার এই যুক্তি কতটুকু বৈধ, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জানান, "এসব দেখাশোনার দায়িত্ব আমার নয়। রেলওয়ের আলাদা বিভাগ ও কর্মকর্তারা এসব বিষয় তদারকি করেন।"
অন্যদিকে, রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবাক হওয়ার ভান করে বলেন, "বিষয়টি এই মাত্র আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তবে কর্মকর্তাদের এই ‘না জানার’ কথা এবং পুরোনো আশ্বাসের পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
একজন আইনজীবী জানান, রেলওয়ের জমি বা গাছপালা সম্পূর্ণ সরকারি সম্পদ। অনুমতি ছাড়া এসব কাটা বা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। লিজগ্রহীতা হলেও শর্ত ভেঙে সরকারি সম্পদের ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তির সুযোগ রয়েছে।