বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
বিল গেটস ও তার মেয়ে ফিবি গেটস ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত শপিং প্ল্যাটফর্ম ‘ফিয়া’ (Phia)-কে ঘিরে গ্রাহক ঠকানো ও প্রযুক্তিগত জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের ২৩ বছর বয়সী মেয়ে ফিবি গেটসের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর গুঞ্জন চলছে। তবে আইনজীবীরা বলছেন, এই ঘটনায় সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের আইনি বিধান থাকলেও ফিবি গেটসের জেল হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। তবে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং ব্যবসায়িক দেওয়ানি মামলার বিশাল ঝুঁকি রয়েছে তার ও তার প্রতিষ্ঠানের ওপর।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী ফিবি গেটস এবং সোফিয়া কিয়ানি যৌথভাবে ২০২৫ সালের এপ্রিলে কনজ্যুমার অ্যাপ ও ব্রাউজার এক্সটেনশন হিসেবে ‘ফিয়া’ চালু করেন। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্ল্যাটফর্মটির ব্রাউজার এক্সটেনশনটি ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দিত। প্রযুক্তি বিশ্বে অনৈতিক এই চর্চাকে ‘কুকি স্টাফিং’ বা ‘ফোর্সড ক্লিক’ বলা হয়।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সিস্টেমে সাধারণত গ্রাহক কোনো নির্দিষ্ট লিংকে ক্লিক করে কেনাকাটা করলে প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান কমিশন পায়। কিন্তু ফিয়ার এক্সটেনশনটি ব্যবহারকারী কোনো পণ্য না কিনলেও কিংবা লিংকে ক্লিক না করলেও কেনাকাটার কৃত্রিম প্রমাণ তৈরি করে রাখত। এর ফলে নাইকি, নর্ডস্ট্রম এবং গ্যাপ-এর মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলো বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। ব্লুমবার্গের দাবি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক মেসেজ ও সোর্স কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জনসমক্ষে আসার কয়েক মাস আগেই প্রতিষ্ঠাতারা এই জালিয়াতির বিষয়টি জানতেন।
বিতর্কিত এই ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়ার পরপরই ফিয়ার দৈনিক গড় আয় ৮০০০০ ডলার থেকে নাটকীয়ভাবে কমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারে নেমে আসে। তবে ফিয়া ব্লুমবার্গের এই রিপোর্ট অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের আয়ের প্রধান মাধ্যমগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখাতেই আয় কমেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়্যার জালিয়াতির অধীনে এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধ হতে পারে, যার জন্য দীর্ঘ কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে প্রসিকিউটরদের আদালতকে নিশ্চিত করতে হবে যে ফিবি গেটস জেনেশুনে প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই স্কিমটি চালিয়েছিলেন, যা প্রমাণ করা বেশ জটিল। সাইবার ল’ বিশেষজ্ঞ স্টার ক্যাশম্যানের মতে, ফৌজদারি ব্যবস্থার চেয়ে এখানে সংযুক্ত পক্ষগুলোর দেওয়ানি মামলা করার পথই বেশি খোলা রয়েছে। চুক্তি ভঙ্গ, গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণ করার অপরাধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যান্ডগুলো ফিয়া-র বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।
অন্যদিকে পারফরম্যান্স-মার্কেটিং ও সাইবার আইনের আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, কুকি স্টাফিং পুরোপুরি একটি চুক্তিভিত্তিক লঙ্ঘন। সাধারণ নিয়মে এমন ঘটনা প্রমাণিত হলে সম্পর্কিত চুক্তি বাতিল হয় এবং সংগৃহীত সমস্ত কমিশন বাজেয়াপ্ত করা হয়।
এখন পর্যন্ত ফিবি গেটস বা ফিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা না হলেও, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় চলছে এবং নিউ ইয়র্ক পোস্টসহ একাধিক সংবাদ মাধ্যম ফিবি গেটসের মন্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে।