নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক সুমন ও নিহত জিতু ছবি:
যশোরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম জিতু (৩৫) সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাতে। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ মামালার আসামি সুমন ওরফে চোর সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। সুমন বারান্দীপাড়া ফুলতলা এলাকার লালু মিয়ার ছেলে।
বুধবার রাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইল এলাকায় তার মৃত্যু হয়। নিহত জিতু শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
বুধবার বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড়ে জিতুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখমের ঘটনায় ৯৯৯-এ খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সার্জারী বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার করেন। রাতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলে পৌঁছালে তিনি মারা যান।
এদিকে শরিফুল ইসলাম জিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতয়ালি থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
নিহত জিতুর চাচাতো ভাই জানান, সুমন, তার স্ত্রী, মা সুকুরন বেগম, শরিফ, তুষার ও রিপন পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে জিতুর ওপর হামলা চালায়। এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অপর পক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে জিতু বাকিতে ইয়াবা কিনতে গিয়েছিল সুমনের মা সুকুরন বেগমের কাছে। সুকুরন বেগম বাকিতে ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিতু মারপিট করে জখম করে তাকে। সুকুরন বেগমকে তার ছেলে ও ছেলের বৌ উদ্ধার করতে গেলে তাদের উপর হামলা করে জিতু। এ সময় পাল্টা হামলায় জিতু গুরুতর জখম হয়ে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায়।
এ বিষয়ে সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ আমানুল্লাহ জানান, ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে সুমনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুমনের মা বর্তমানে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিকেলে কোতয়ালি থানা পুলিশ আটক সুমনকে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ধ্রুব/টিএম