Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

আশুরা: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

শহিদুল আলম শহিদুল আলম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন,২০২৬, ১২:৪৯ এ এম
আশুরা: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা

ইসলামি বর্ষপঞ্জি বা হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। এই মাসের দশম দিনটি মুসলিম বিশ্বে ‘আশুরা’ নামে পরিচিত। আরবি ‘আশারা’ শব্দ থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি, যার শাব্দিক অর্থ দশম। মানব ইতিহাসের বহু তাৎপর্যপূর্ণ, অলৌকিক এবং মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনার সাক্ষী এই দিনটি। ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসটি যেমন মর্যাদাপূর্ণ, তেমনি আশুরার দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একাধারে শোক, স্মৃতিচারণ, আত্মশুদ্ধি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এই দিনের গুরুত্ব ছিল প্রধানত ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত অলৌকিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে। তবে হিজরি ৬১ সনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদতের পর এই দিনটি মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে এক গভীর ট্র্যাজেডি ও শোকের মহিমায় ভাস্বর হয়ে ওঠে।

প্রাক-ইসলামি আমল
আশুরার গুরুত্ব কেবল উম্মতে মোহাম্মদির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ইসলামের পূর্ববর্তী যুগেও এই দিনটির বিশেষ মর্যাদা ছিল। মানবজাতির সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকেই এই দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়।

১. আদি ঐতিহাসিক ঘটনাবলি
ইসলামি ঐতিহাসিক ও তাফসিরবিদদের মতে, মহররমের দশম তারিখে মহান আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। এ ছাড়া এই দিনে আম্বিয়ায়ে কেরামদের জীবনে বহু অলৌকিক ও উদ্ধারকারী ঘটনা ঘটেছে। যেমন:

·         হযরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল: নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণের পর পৃথিবীতে প্রেরিত হয়ে হযরত আদম (আ.) ও হযরত হাওয়া (আ.) দীর্ঘকাল ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ঐতিহাসিক বর্ণনা মতে, আশুরার এই পবিত্র দিনেই আল্লাহ তাআলা তাঁদের তওবা কবুল করেছিলেন।

·         হযরত নূহ (আ.)-এর প্লাবন থেকে মুক্তি: মহাপ্লাবনের পর হযরত নূহ (আ.)-এর কিশতি বা নৌকা জুদি পর্বতে এসে নোঙর করেছিল এই ১০ই মহররম। এই দিনেই তারা জলমগ্ন পৃথিবী থেকে পুনরায় স্থলের দেখা পান এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন।

·         হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর নমরুদের আগুন থেকে রক্ষা: জালিম শাসক নমরুদ কর্তৃক প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ড থেকে হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর রহমতে অলৌকিকভাবে মুক্তি লাভ করেন এই ১০ই মহররম।

·         হযরত ইউনুস (আ.)-এর মাছের পেট থেকে মুক্তি: দীর্ঘ চল্লিশ দিন পর মাছের পেট থেকে আল্লাহর সানুগ্রহ ক্ষমায় মুক্তি পান হযরত ইউনুস (আ.)।

·         হযরত আইয়ুব (আ.)-এর রোগমুক্তি: দীর্ঘ আঠারো বছর কঠিন রোগে আক্রান্ত থাকার পর হযরত আইয়ুব (আ.) এই দিনে অলৌকিকভাবে পূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন।

২. মুসা (আ.) এবং বনি ইসরাইলের মুক্তি
আশুরার ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রামাণ্য এবং সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস দ্বারা সমর্থিত ঘটনাটি হলো হযরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলের ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি লাভ। মিশরের অত্যাচারী শাসক ফেরাউনের কবল থেকে বনি ইসরাইলকে মুক্ত করার জন্য হযরত মুসা (আ.) আল্লাহর নির্দেশে যাত্রা করেন। লোহিত সাগরের সামনে এসে যখন তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন, তখন আল্লাহর হুকুমে সাগরে বারোটি রাস্তার সৃষ্টি হয়। মুসা (আ.) তাঁর অনুসারীদের নিয়ে সাগর পার হয়ে যান। কিন্তু ফেরাউন ও তার বিশাল বাহিনী সেই রাস্তা দিয়ে পার হতে গেলে লোহিত সাগরের পানি পুনরায় এক হয়ে যায় এবং ফেরাউন সসৈন্যে ডুবে মারা যায়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার দিনটি ছিল ১০ই মহররম।

৩. জাহেলি যুগে মক্কায় আশুরা
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে মক্কার কোরাইশরা এবং আরবের অন্যান্য সম্প্রদায়ও ১০ই মহররমকে সম্মান করত। তারা এই দিনে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করত এবং রোজা রাখত। সহিহ বুখারির বর্ণনায় উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) থেকে জানা যায়, জাহেলি যুগে কোরাইশরা আশুরার দিনে রোজা রাখত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে এই রোজা রাখতেন।

ইসলামে আশুরার বিধান ও ইবাদতের গুরুত্ব
মদিনায় হিজরতের পর ইসলামে আশুরার গুরুত্ব এক নতুন মাত্রা পায়। মদিনার ইহুদি সম্প্রদায়কে এই দিনে রোজা রাখতে দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কারণ জানতে চান। তারা জানায়, এই দিনে আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং ফেরাউনকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন, তাই তারা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, "হযরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।" এরপর তিনি নিজে রোজা রাখলেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন।

রোজা রাখার বিধান ও পদ্ধতি
রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে মুসলিমদের জন্য আশুরার রোজা রাখা আবশ্যক বা ওয়াজিব ছিল। পরবর্তীতে হিজরি দ্বিতীয় সনে যখন রমজানের রোজা ফরজ হয়, তখন আশুরার রোজার আবশ্যকতা শিথিল করে এটিকে 'নফল' বা 'মুস্তাহাব' হিসেবে বহাল রাখা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের বছর আক্ষেপ করে বলেছিলেন যে, ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য বর্জন করার জন্য আগামী বছর বেঁচে থাকলে তিনি ১০ই মহররমের সাথে ৯ই মহররম অথবা ১১ই মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখবেন।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, আশুরার রোজা একটির পরিবর্তে দুটি রাখা উত্তম, যাতে অমুসলিমদের সংস্কৃতির সাথে মুসলিমদের ইবাদতের সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "আমি আশা করি আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা বান্দার পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন।"

কারবালার ট্র্যাজেডি: আশুরার ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন
আশুরার আদি ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো হলেও, হিজরি ৬১ সনের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ১০ই মহররম ইরাকের কারবালা প্রান্তরে সংঘটিত এক মর্মান্তিক ঘটনা এই দিনটিকে মুসলিম উম্মাহর কাছে চিরন্তন শোক ও ত্যাগের প্রতীকে পরিণত করে। মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, জান্নাতের যুবকদের সর্দার হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর শাহাদত এই দিনটির সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে।

১. কারবালার পটভূমি
হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ইয়াজিদ দামেস্কের খলিফা হিসেবে ক্ষমতা আরোহণ করেন। ইয়াজিদের এই ক্ষমতা গ্রহণ ছিল ইসলামি খেলাফতের শরিয়তসম্মত রীতিনীতির পরিপন্থী এবং রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা। ইয়াজিদের অন্যায় শাসন, চরিত্রগত বিচ্যুতি এবং ইসলামি মূল্যবোধের অবমাননার কারণে হযরত ইমাম হোসেন (রা.) তার আনুগত্য (বায়াত) স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি মনে করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধর হিসেবে অন্যায়ের সামনে মাথা নত করলে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ চিরতরে কলঙ্কিত হবে।

কুফাবাসীদের বারবার আমন্ত্রণ এবং ইয়াজিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে উম্মাহর নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে ইমাম হোসেন (রা.) মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু কুফাবাসীরা রাজনৈতিক চাপ ও ভয়ের মুখে তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।

২. অবরুদ্ধ কারবালা ও অসম যুদ্ধ
ইমাম হোসেন (রা.) যখন তাঁর পরিবার এবং অনুসারীসহ মাত্র ৭২ জনের একটি কাফেলা নিয়ে কারবালার প্রান্তরে পৌঁছান, তখন ইয়াজিদের কুখ্যাত গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের নির্দেশে চার হাজারেরও বেশি সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী তাঁদের চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। ফোরাত নদীর পানি তাঁদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৃষ্ণায় কাতর ইমাম হোসেন (রা.)-এর কাফেলাকে ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করার জন্য চরম চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু ইমাম হোসেন (রা.) সাফ জানিয়ে দেন, "অন্যায় ও অসত্যের সামনে মাথা নত করার চেয়ে শাহাদত বরণ অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।"

৩. ১০ই মহররমের নির্মম শাহাদত
১০ই মহররম সকালে কারবালার ময়দানে এক অসম যুদ্ধ শুরু হয়। ইমাম হোসেন (রা.)-এর কাফেলার বীর যোদ্ধারা একে একে ইসলামের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেন। তৃষ্ণার্ত শিশুদের আর্তনাদের মধ্যেও তারা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। একে একে ইমাম হোসেন (রা.)-এর ভাই, সন্তান এবং স্বজনেরা শহীদ হন। অবশেষে দুপুরের পর জোহরের নামাজ আদায় করার সময় মহানবীর প্রিয় দৌহিত্রকে অত্যন্ত নির্মমভাবে শহীদ করে শিমার ইবনে জিলজুশান এবং তার সঙ্গীরা। ইমাম হোসেন (রা.)-এর পবিত্র মস্তক কেটে দামেস্কে ইয়াজিদের দরবারে পাঠানো হয়। ইসলামের ইতিহাসে এই নৃশংস ঘটনা ‘কারবালার ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত।

আশুরা উদযাপনে শিয়া ও সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গি
কারবালার এই মহান ত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের প্রধান দুটি ধারা—সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে আশুরা উদযাপনে দৃষ্টিভঙ্গিগত কিছু পার্থক্য দেখা যায়।

শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি
শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে আশুরা প্রধানত ইমাম হোসেন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য শোক ও মাতমের দিন। মহররমের প্রথম দিন থেকেই তারা কালো পোশাক পরিধান করে এবং বিশেষ শোকসভা বা 'মজলিস'-এর আয়োজন করে। ১০ই মহররম তারা রাস্তায় 'তাজিয়া মিছিল' বের করে। এই মিছিলে ইমাম হোসেন (রা.)-এর প্রতিকী কফিন বহন করা হয় এবং অনেকে নিজের শরীরকে শৃঙ্খলিত বা আঘাত করে (মাতম) কারবালার কষ্টের অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আধুনিক যুগের অনেক শিয়া স্কলার শরীর রক্তাক্ত করার এই প্রথাকে ইসলাম-বহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং এর পরিবর্তে রক্তদানের মতো জনকল্যাণমূলক কাজের আহ্বান জানিয়েছেন।

সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গি
সুন্নি মুসলিমদের কাছে আশুরা একই সাথে ইবাদত ও শোকের দিন। তারা কারবালার ঘটনাকে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি মনে করেন এবং ইমাম হোসেন (রা.) ও আহলে বায়তের (নবী পরিবার) প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পোষণ করেন। তবে সুন্নি আলেমদের মতে, ইসলামে কোনো মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের বেশি শোক পালন বা বুক চাপড়ে মাতম করার অনুমতি নেই। তাই তারা তাজিয়া মিছিল বা শরীর রক্তাক্ত করার মতো বিষয়গুলোকে সমর্থন করেন না। সুন্নিরা এই দিনে রোজা রাখা, নফল ইবাদত করা, কারবালার শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা এবং গরিব-দুঃখীদের মাঝে খাবার বিতরণের মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করেন।

সমকালীন সমাজে আশুরার শিক্ষা ও প্রাসঙ্গিকতা
আশুরা কেবল অতীত ইতিহাসের কোনো গল্প বা স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়। সমকালীন বাস্তবতায় ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আশুরার শিক্ষা অত্যন্ত গভীর এবং প্রাসঙ্গিক।

                  ┌────────────────────────────────────────┐
                  │            আশুরার মূল শিক্ষা        
                  └───────────────────┬────────────────────┘
                        
                  ──┐                                     ┌───────┴───────┐
│ স্বৈরাচার ও             │            │     সত্য ও ন্যায়ের │            │ ইবাদত ও       │
│ অন্যায়ের প্রতিরোধ │            │ ওপর অবিচলতা   │            │ আত্মশুদ্ধি     │


১. অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: কারবালার মূল বার্তা হলো—শাসক যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সে যদি অনৈতিক, অত্যাচারী এবং শরিয়ত পরিপন্থী হয়, তবে তার সামনে মাথা নত করা যাবে না। ইমাম হোসেন (রা.) ক্ষমতার লোভ বা কোনো পার্থিব স্বার্থে যুদ্ধ করেননি; বরং তিনি ইসলামের প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আজকের পৃথিবীতে যেখানেই স্বৈরাচার, সামাজিক অবিচার ও শোষণ রয়েছে, সেখানেই কারবালার চেতনা প্রেরণার উৎস।

২. সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচলতা: কারবালা আমাদের শেখায় যে, সত্যের পথে সংখ্যা বা শক্তি বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হলো ঈমান ও আদর্শের প্রতি সততা। মাত্র ৭২ জন সঙ্গী নিয়ে ইমাম হোসেন (রা.) যেভাবে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহসিকতার উদাহরণ।

৩. ঐক্য ও সম্প্রীতি: আশুরার আরেকটি বড় শিক্ষা হলো মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ঐক্য। কারবালার বিপর্যয় ঘটেছিল মুসলিমদের রাজনৈতিক বিভেদ ও ভীরুতার কারণে। বর্তমান যুগেও মুসলিম বিশ্বকে নিজেদের মধ্যকার ভেদাভেদ ভুলে ইসলামের মূল আদর্শের ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে আশুরা তাগিদ দেয়।

আশুরা হলো উম্মতে মোহাম্মদির জন্য এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস। এটি একদিকে যেমন আল্লাহর অসীম রহমত, ক্ষমা এবং আম্বিয়ায়ে কেরামের বিজয়ের স্মৃতি বহন করে, অন্যদিকে কারবালার প্রান্তরে শাহাদতের অম্লান ত্যাগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসলাম যে কোনো অন্যায়, জুলুম এবং রাজতন্ত্রের কাছে মাথা নত করে না, কারবালাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কেবল আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ বা রোজা রাখার মধ্যেই আশুরার সার্থকতা সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে ইমাম হোসেন (রা.)-এর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সত্য, সুন্দর ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার মধ্যে।

তথ্যসূত্র : ১. আল-কুরআনুল কারীম, সূরা ইউনুস, আয়াত: ৯০-৯২ (বনি ইসরাইল ও ফেরাউনের ঘটনার বিবরণ)। ২. সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ২০০০, ২০০২ (আশুরার রোজা ও মদিনার ইহুদিদের প্রসঙ্গ)। ৩. সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১১৩০ (আশুরার রোজার ফজিলত ও পূর্ববর্তী বছরের গুনাহ মাফ সংক্রান্ত)। ৪. ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: মক্কা ও কারবালার ঐতিহাসিক বিবরণ। ৫. আল-তাবারী, তারিখ আল-উমাম ওয়াল মুলুক (ইতিহাস গ্রন্থ), ৫ম খণ্ড, কারবালা উপাখ্যান। ৬. আহমদ ইবনে হাম্বল, আল-মুসনাদ, হাদীস শরীফ (আহলে বায়তের ফজিলত সংক্রান্ত)।
 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)