বাঘারপাড়া প্রতিনিধি
বাঘারপাড়ার আফজাল ৫৭ ভরি সোনা ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার ছবি:
রাজধানীর ওয়ারী থানার আলোচিত ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার ছিনতাই ও ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতির মামলায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গত (৬ জুন) রায়পুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন ডিবি পুলিশ। আফজাল (২৫) বাঘারপাড়ার রায়পুর ইউনিয়নের সাবেক ৮ নং ওয়ার্ডের ইছা মেম্বার’র ছেলে। রাজধানীতে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৯ সদস্যের তালিকায় আফজালের নাম আসায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আফজাল শুধু ছিনতাই নয় তার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর চাঁদাবাজি, অন্যের গাছ কেটে বিক্রি, দখল বাণিজ্যসহ একাধিক অপরাধের তথ্য রয়েছে। তার পিতা ইছা মেম্বারের বিরুদ্ধে যশোর-বাঘারপাড়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র ও মাদক দ্রব্য আইনে দুই ডজন মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি দখলদারিত্বসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মে রাতে ওয়ারী থানার নবাবপুর রোড এলাকায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তার ম্যানেজার ব্যবসা শেষে ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে একদল ডাকাত নিজেদের ডিবি (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের গতিরোধ করে। পরে অস্ত্র ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের একটি মাইক্রোবাসে তুলে চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। ডাকাত চক্রটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সব স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগীদের ঢাকার কমলাপুর এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। গত শনিবার (৬ জুন) প্রথমে চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে যশোর বাঘারপাড়ার রায়পুর বাজার থেকে আফজাল হোসেনসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সুসংগঠিত আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের হেফাজত থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১৭ ভরি গলানো স্বর্ণ, সোনা বিক্রির নগদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, একটি খেলনা পিস্তল, ‘ডিবি’ লেখা তিনটি কটি (জ্যাকেট), দুটি ওয়াকিটকি সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ ও লাঠি এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাস।