Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর বৈষম্য  কেন?

গাউস হোসেন সরদার গাউস হোসেন সরদার
প্রকাশ : সোমবার, ৮ জুন,২০২৬, ০১:৫০ এ এম
সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর বৈষম্য  কেন?

ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আয়কর আইন ২০২৩ এবং পরিপত্র ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী, দেশের সরকারি খাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বেসরকারি খাতে কর্মরত চাকরিজীবীদের করযোগ্য আয় গণনা এবং কর ছাড়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাঠামোগত ও নীতিগত পার্থক্য রয়েছে । অর্থনীতিবিদ ও রাজস্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্বৈতনীতি চাকরিজীবীদের দুই খাতের মধ্যে একটি স্পষ্ট কর বৈষম্য তৈরি করেছে । নিচে এই বৈষম্যগুলোর একটি বিস্তারিত এবং সুনির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হলো-

করযোগ্য আয়ের পরিধি ও ভাতার ওপর করছাড় (প্রধান বৈষম্য)

সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের কর বৈষম্যের মূল জায়গাটি হলো ভাতার করযোগ্যতা । ২০১৭ সালের এনবিআরের প্রজ্ঞাপন এবং নতুন আয়কর নির্দেশিকা অনুযায়ী এই পার্থক্যটি অত্যন্ত প্রকট:

সরকারি চাকরিজীবী

সরকারি বেতন আদেশভুক্ত (National Pay Scale) কর্মচারীদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মূল বেতন (Basic Salary) এবং উৎসব ভাতা (Festival Bonus) করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হয় । এর বাইরে তাদের প্রাপ্ত বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, মহার্ঘ্য ভাতা, বৈশাখী ভাতা, ছুটি নগদায়ন এবং অন্যান্য সমস্ত সরকারি ভাতা সম্পূর্ণ করমুক্ত । এর ফলে একজন সরকারি কর্মকর্তার মোট বেতনের প্রায় ৭০% থেকে ৮২% করের আওতার বাইরে থাকে ।

বেসরকারি চাকরিজীবী

বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মূল বেতন ও বোনাসের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ সব ধরনের ভাতাই করযোগ্য আয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় । মোট আয়ের উপর একটি সাধারণ করছাড় (মোট বেতনের ১/৩ অংশ অথবা সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ টাকা, যেটি কম) দেওয়া হলেও, বাকি সম্পূর্ণ আয়ের ওপর প্রগতিশীল হারে কর দিতে হয় । ফলে তাদের প্রায় পুরো আয়ের ওপরই করের বোঝা চাপে ।
কর্মজীবনের শুরুতে করের বাধ্যবাধকতা

কর্মজীবনের শুরুতে করের বাধ্যবাধকতা

(বিসিএস ক্যাডার বনাম বেসরকারি এন্ট্রি লেভেল)

ভাতা সম্পূর্ণ করমুক্ত হওয়ার কারণে বিসিএস (BCS) ৯ম গ্রেডে নতুন যোগদান করা একজন সরকারি কর্মকর্তার শুরুর কয়েক বছর মোট বার্ষিক করযোগ্য আয় (শুধুমাত্র মূল বেতন ও উৎসব ভাতা) সরকারি করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা (৩,৭৫,০০০ টাকা) অতিক্রম করে না । ফলে প্রথম ৪ বছর (নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৬ বছর) কোনো আয়কর দিতে হয় না । পক্ষান্তরে, বেসরকারি খাতে একই মানের বেতনে যোগদান করা একজন কর্মীকে প্রথম বছর থেকেই তার মোট আয়ের ওপর হিসাব কষে আয়কর প্রদান করতে হয় ।

ভবিষ্যৎ তহবিল (Provident Fund) ও আনুতোষিক (Gratuity) ফান্ডের করযোগ্যতা

চাকরি শেষে সামাজিক সুরক্ষার অন্যতম মাধ্যম হলো প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি। এখানেও করের বড় বৈষম্য বিদ্যমান-

 

 

বিষয়


সরকারি চাকরিজীবী বেসরকারি চাকরিজীবী
প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির লভ্যাংশ সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা অর্থ এবং এর ওপর প্রাপ্ত লভ্যাংশ বা সুদ সম্পূর্ণ করমুক্ত । বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ডকে 'করদাতা' হিসেবে রিটার্ন দিতে হয় এবং ফান্ডের বিনিয়োগজনিত আয়ের ওপর ১৫% হারে কর দিতে হয়, যা কর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা কমিয়ে দেয় ।
অবসরকালীন এককালীন অর্থ অবসরকালীন প্রাপ্ত পেনশন এবং ল্যাম্পগ্র্যান্ট (Lump Grant) সম্পূর্ণ করমুক্ত । গ্র্যাচুইটি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা (আয়কর আইন অনুযায়ী সাধারণত ২.৫ কোটি টাকা) অতিরিক্ত হলে করের বাধ্যবাধকতা থাকে ।

উৎসে কর কর্তন (TDS) ও রিটার্ন দাখিল

বেসরকারি খাত

 বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রদানের সময় প্রতি মাসেই নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে উৎসে কর (Tax Deducted at Source - TDS) কেটে রাখে । কর ফাঁকি দেওয়ার বা কম দেওয়ার কোনো সুযোগ এখানে থাকে না ।

সরকারি খাত

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসিক মূল বেতন নির্দিষ্ট সীমা (যেমন পুরুষের ২৬,৭৮৫ টাকা এবং নারীর ৩০,৩৫৭ টাকা) অতিক্রম না করলে উৎসে কর কাটার নিয়ম নেই । ফলস্বরূপ, প্রায় ৮২ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কার্যকরীভাবে আয়করের আওতার বাইরে থেকে যান । যদিও ২০২৩ সাল থেকে সব সরকারি কর্মচারীর জন্য রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবুও ভাতার করমুক্ত সুবিধার কারণে তাদের সিংহভাগেরই প্রদেয় করের পরিমাণ শূন্য বা ন্যূনতম বাৎসরিক করের (৩,০০০ - ৫,০০,০০০ টাকা) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে ।

 

তুলনার ক্ষেত্র


সরকারি চাকরিজীবী বেসরকারি চাকরিজীবী
করযোগ্য উপাদান কেবলমাত্র মূল বেতন ও উৎসব বোনাস । মূল বেতন, বোনাস, সমস্ত ভাতা বা পারকুইজিটের সমষ্টি (১/৩ অংশ বা ৫ লাখ টাকা বাদ দেওয়ার পর) ।
বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা ১০০% করমুক্ত (শতভাগ ছাড়) । আলাদা কোনো ১০০% ছাড় নেই, মোট আয়ের অংশ হিসেবে গণ্য ।
যোগদানের পর করের সূচনা প্রথম ৪ থেকে ৬ বছর সাধারণত শূন্য কর । প্রথম বছর থেকেই করযোগ্য সীমা পার হলে কর দিতে হয় ।
প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্যাক্স সম্পূর্ণ করমুক্ত । ফান্ডের আয়ের ওপর ১৫% কর ধার্য ।
গড়ে বার্ষিক কর প্রদান খুবই সামান্য (এনবিআরের তথ্যমতে গড় কর প্রায় ৬,২২১ টাকা) । আয়ের অনুপাতে অনেক বেশি এবং কঠোরভাবে উৎসে কর্তিত ।

শেষকথা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং দেশের অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এই কর বৈষম্য দূর করার সুপারিশ করে আসছেন । তাদের মতে, একই বাজারে পণ্য কেনাকাটা করার পরও পেশাভেদে করের এই দ্বৈতনীতি "কর ন্যায্যতা" (Tax Equity) লঙ্ঘন করে এবং বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের ওপর বাড়তি মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে ।

লেখক: ব্যাংকার

*মতামত লেখকের নিজস্ব

তথ্যসূত্র-

 ০১. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) আয়কর পরিপত্র ২০২৫-২০২৬

 ০২. আয়কর নির্দেশিকা এবং আয়কর আইন ২০২৩ ।

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)