নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ (সদর) আসনের এমপি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাসিস্ট আমলে যশোরের স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার কথা মহান জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ (সদর) আসনের এমপি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার মহান জাতীয় সংসদের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় যশোরের স্বাস্থ্য খাতে বিএনপি সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
আমি আমার কষ্টের স্মৃতি মহান সংসদে তুলে ধরতে চাই। রাজপথের সাথী সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন ইরানকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আনার পথে ভাঙায় ইন্তেকাল করেন। এমনই ভাবে প্রতিনিয়ত আমার নিজ জেলা যশোরে রোগীকে উন্নত চিকিৎসায় ঢাকা কিংবা খুলনায় যেতে গিয়ে পথিমধ্যে জীবন দিতে হয়। সে কারণে ২০০১ সালে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবার পর আমার পিতা বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন যশোরে একটি পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার। দেশনেত্রী সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে করোনারি কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিল্ডিং হলো, বাক্স ভর্তি মেশিন আসলো কিন্তু সরকারের পালাবদলে সেই ১৯ বছরে সেই মেশিন আর বাক্স খুলে চালু হলো না। তাই এই ১৯ বছরে প্রতিদিন ঢাকা এবং খুলনায় যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত বহু রোগীকে জীবন দিতে হয়েছে। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি অতীতে উল্লেখ করেছিলাম। আমি আশা করব আগামীতে এই অঞ্চলের কোনো মানুষকে যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কিংবা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথে জীবন হারাতে না হয়।
প্রতিমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদদের স্মরণ এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। নব্বই এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকলকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করতে গিয়ে যশোরে আত্মদানকারী ৬৮ জনকে স্মরণ করেন। যশোর-৩ আসনের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তার প্রয়াত পিতা বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সুখস্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গেল সোমবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার নিজ জেলা যশোরে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে উলাশী খাল খননের মাধ্যমে বাংলাদেশে খাল খনন সূচনা করেছিলেন। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সেই খাল পুনঃখনন কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন। পঞ্চাশ বছর পূর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে ছিলেন আমার প্রয়াত পিতা তরিকুল ইসলাম। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সৌভাগ্য দিয়েছেন পঞ্চাশ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সেই উলাশী খাল খননে অংশ নেবার। সেদিন একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। যে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০ বছর পূর্বে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক জনতাকে সাক্ষী রেখে আমার প্রয়াত পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিশ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। মহান আল্লাহ পাক খাল খননের মতো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে থাকার সুযোগ দিয়েছেন। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত সুখস্মৃতি নয়। যশোর থেকে প্রধানমন্ত্রী সমগ্র দেশবাসীকে শুভ বার্তা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমাদের মা-বোনদের রান্নায় স্বাচ্ছন্দ্য দেবার জন্য প্রত্যেককে এলপিজি গ্যাসের কার্ড দেবেন। যার মাধ্যমে মায়েরা সহজ এবং ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি গ্যাস ক্রয় করতে পারবেন।
আজ এই সংসদে দেখছি কৃতিত্ব দাবি করার প্রতিযোগিতা চলছে। চব্বিশের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রিয় নেতা তারেক রহমান গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করেননি। যদিও বিএনপির পাঁচ হাজারের অধিক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। সাত শতাধিক গুম হয়েছেন, ৬০ লাখ নেতাকর্মী বারংবার মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে গেছেন। জীবনের সোনালী সময় কোর্টের বারান্দায় কেটেছে। কিন্তু আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব সমগ্র দেশবাসীর সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। তাই কৃতিত্ব দাবি করার প্রতিযোগিতা নয়, শুধু মুখে ঐক্যের কথা নয় মাঝে মাঝে আতঙ্কিত হই আমার বিরোধী দলের বন্ধুদের শরীরের ভাষায়। এত উত্তেজনা, সামান্য কিছু শব্দ এবং বাক্য শরীরের জন্য ভালো নয়।
আজকে বিরোধী দলীয় নেতা উপস্থিত থাকলে তাকে জিজ্ঞেস করতাম যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসন থেকে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তাকে আমি চাচা বলে সম্বোধন করি। আমরা একসাথে জেলখানায় থেকেছি, একসাথে রোজা রেখেছি, নামাজ পড়েছি, ইফতার করেছি। কিছু হলে উনি যেভাবে উত্তেজিত হয়ে যান, তাতে উনার শরীরটা খারাপ হয়। এত উত্তেজনায় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে কি না, আমি আতঙ্কিত।
আজ যেহেতু রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা। এই রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত। কিন্তু ভালো লাগার বিষয়টি হলো ফ্যাসিস্ট দ্বারা নিয়োগকৃত হলেও বর্তমান রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ, প্রিয় নেতা তারেক রহমানের অবদানকে স্বীকার করেন। সাভার স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি যখন শ্রদ্ধা জানাতে গেলাম, একই ভাবে বিরোধী দলের বন্ধুরা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উপস্থিত হয়েছেন। যখন জাতির সূর্যসন্তান মেজর হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রমকে মহান জাতীয় সংসদের স্পিকারের চেয়ারে বসানোর বিষয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলে সমর্থন দেন, তখন ভালো লাগে। এই ভালো লাগাকে ধরে রাখতে চাই। সূত্র : লোকসমাজ