ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের ভৌত পরীক্ষা (ফিজিকস টেস্ট) সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া সঠিকভাবে শুরু হয়েছে। পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে সন্তুষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।
পরবর্তী এই ধাপটি ‘পাওয়ার স্টার্ট’ বা ‘সি-স্টেজ’ নামে পরিচিত। এ ধাপে প্রধান কাজ হলো জাতীয় গ্রিডে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। বায়েরার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিখুঁতভাবে যাচাই করতে চুল্লি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর এবং নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। শূন্য শক্তি দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে চুল্লির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হবে। রূপপুরের পরমাণু বিজ্ঞানীরা জানান, চুল্লির ক্ষমতা ৩০ শতাংশে পৌঁছালেই গ্রিডে যুক্ত হয়ে প্রথম পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পারমাণবিক বিকিরণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় কিছুটা ত্রুটি মেলায় তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেই কারিগরি ত্রুটি নিখুঁতভাবে সমাধান করে গত ১১ অক্টোবর থেকে পারমাণবিক বিক্রিয়া চালু করা হয়। প্রতিটি ধাপে আর্ন্তজাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক ও মেগা প্রকল্প হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) প্রকল্পটি পরিচালনায় নিয়োজিত। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট’ এখানে ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে।
উল্লেখ্য, প্রথম ইউনিটের সফল পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছানোর মাধ্যমেই বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের সম্মান অর্জন করে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির শর্তানুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ বাড়লেও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়ে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।