আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
সুদানের পশ্চিম কর্দোফানে এক ভয়াবহ সোনার খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার এল-নাহুদ শহরের নিকটবর্তী ‘আল-জারা’ নামক একটি অনানুষ্ঠানিক সোনা উত্তোলনের খনিতে পরপর বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে এই ট্র্যাজেডি ঘটে। বুধবার সকাল পর্যন্ত মাটি ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ভেতরে এখনো অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীরা। সুড়ঙ্গগুলো অত্যন্ত গা ঘেঁষা হওয়ায় একটি ধসে পড়ার সাথে সাথে পর পর অন্য সুড়ঙ্গগুলোও ভেঙে পড়ে। পর্যাপ্ত আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে সহকর্মীরাই কোদাল ও সাধারণ হাতিয়ার দিয়ে রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালান। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন তা নিশ্চিত না হওয়া গেলেও তাদের বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাঘটিত এলাকাটি আরএসএফের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে বড় ধরনের আনুষ্ঠানিক বা সরকারি উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক ধস এবং প্রায় দুই কোটি মানুষের চরম খাদ্যসংকটের কারণে সুদানে বেকারত্বের হার প্রকট আকার ধারণ করেছে। বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়েই ২০ লাখেরও বেশি মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই হস্তচালিত ও অনানুষ্ঠানিক সোনা উত্তোলন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।
উল্লেখ্য, সুদান আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ সোনা উৎপাদনকারী দেশ এবং বিদায়ী বছরে দেশটি রেকর্ড ৭০ টন সোনা উত্তোলন করেছে। এই খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভর করেই যুদ্ধরত দুই পক্ষ তাদের যুদ্ধের বিপুল খরচ জোগাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, সুদানের উত্তোলিত সোনার সিংহভাগই আন্তর্জাতিক বাজারে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে। প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং যুদ্ধের তীব্রতার মাঝে দুর্বল অবকাঠামো ও ঝুঁকিপূর্ণ সুড়ঙ্গের কারণে আল-জারার মতো খনিগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।