আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: এনডিটিভি
উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি শীর্ষ সারির যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও কড়া প্রতিবাদ জানাতে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি তলব করেছে নয়া দিল্লি।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এমন "অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার আচরণের" বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের উসকানিমূলক আচরণ ১৯৯১ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ১০ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে সামরিক মহড়া ও যুদ্ধজাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার বিধান রয়েছে। এই বার্তাটি অবিলম্বে ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি কূটনীতিককে। পাশাপাশি, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও একইভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি জমা দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় মিশনপ্রধানকে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়, ওমান উপকূল থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে। উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় ভারতীয় যুদ্ধজাহাজটির বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসে একটি পাকিস্তানি 'হুনাইন-ক্লাস করভেট'। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, উত্তাল সমুদ্রে গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তানি জাহাজটি অত্যন্ত দ্রুত ও ঝুঁকি নিয়ে দিক পরিবর্তন করে, যার ফলে ভারতীয় জাহাজটির সাথে এটির ধাক্কা লাগে। ঘটনার পর উভয় জাহাজই নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়। কোনো জাহাজেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিকূল আবহাওয়ায় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এমন আক্রমণাত্মক ও হুমকিমূলক আচরণ ছিল আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের বিপজ্জনক মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১ সালের জুনে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ' PNS বাবুড়' এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর 'INS গোদাবরী'-র মধ্যেও একই ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল।