দ্য নিউজ
২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদের একটি রাস্তায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার খবর প্রদর্শনকারী একটি ডিজিটাল স্ক্রিনের নিচ দিয়ে ছেলেরা হেঁটে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদ: ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলগুলো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে চলায়, ব্যাপক কিন্তু জটিল বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আলোচনার লক্ষ্য হলো একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর ভিত্তি করে একটি বৃহত্তর চুক্তির পথ অন্বেষণ করা।
আলোচনাটি দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে: ইরানের দেওয়া একটি ১০-দফা কাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি ১৫-দফা পরিকল্পনা। যদিও উভয় পক্ষই আলোচনায় অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তবুও তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও পর্যবেক্ষণ
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন এই মর্মে দৃঢ় নিশ্চয়তা চাইছে যে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এর পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা এবং আইএইএ-র নিবিড় পর্যবেক্ষণের ওপরও জোর দিচ্ছে। তবে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকারের স্বীকৃতি চাইছে, যাকে তারা জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয় বলে মনে করে।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত সম্পদ
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরেকটি প্রধান বিষয়। ইরান বিদেশে জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ ছাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সব নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন; তারা পারমাণবিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পালনে ইরানের যাচাইযোগ্য সম্মতির সাথে সরাসরি যুক্ত করে পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পক্ষে।
হরমুজ প্রণালী ও নৌ-নিরাপত্তা
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও প্রবেশাধিকারও একটি বড় বিবাদের বিষয়। ইরান এর ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব উল্লেখ করে এই জলপথের ওপর তার নিয়ন্ত্রক ভূমিকার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চাইছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রণালীটির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক নৌপথের ওপর জোর দেয়।
আঞ্চলিক প্রভাব ও সামরিক উপস্থিতি
আঞ্চলিক প্রভাব একটি স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবেই রয়ে গেছে। ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান ওই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ এবং আঞ্চলিক সংঘাতগুলোতে ব্যাপক উত্তেজনা হ্রাসের দাবি জানাচ্ছে। ইরান এই অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং আগ্রাসন না চালানোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের প্রতি নিরাপত্তা দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তার সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষতিপূরণ
আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের ওপর সীমাবদ্ধতা এবং ব্যাপকতর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা চাইছে, অন্যদিকে ইরান এই ধরনের দাবিকে তার আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখে। তেহরান সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও উত্থাপন করেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ ও মিত্রদের ওপর হামলার মোকাবিলায় জবাবদিহিতার ব্যবস্থা চালুর জন্য চাপ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা ঘনিয়ে আসায়, সূত্রগুলো স্বীকার করছে যে উভয় পক্ষের আস্থা তৈরির পদক্ষেপের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও অবিলম্বে কোনো বড় ধরনের সাফল্যের আশা করা যাচ্ছে না, সূত্রগুলো মনে করে যে আলোচনা প্রক্রিয়া সম্ভবত অব্যাহত থাকবে, যার অর্থ হবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি।