নিজস্ব প্রতিবেদক
হাম-রুবেলা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যশোরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২ হাজার ২৫৬টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছবি: ধ্রুব নিউজ
হাম-রুবেলা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যশোরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২ হাজার ২৫৬টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ সোমবার যশোর সিভিল সার্জন অফিসে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিগত দুই বছর যারা সরকারে ছিল, তারা এই বিষয়টি নিয়ে অসচেতন ছিল বলে সঠিকভাবে টিকা দেওয়া হয়নি। যার ফলে বর্তমানে কিছুটা বিড়ম্বনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১০ মে পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন চলবে এবং ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। অভিভাবকদের সচেতনতার সাথে শিশুদের কেন্দ্রে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এর প্রকোপ বেশি ছিল, যার মধ্যে যশোর সদরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সদরে ৫ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষ কর্মসূচির পর আজ ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হলো।
ডা. মাসুদ রানা আরও জানান, যশোরে সদর উপজেলাসহ মোট ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮০০ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৭৪ হাজার ৫৯৮ জন শিশুকে ভ্যাক্সিনেশন করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী সব শিশু এই টিকা পাবে। বিশেষ করে যারা আগে কোনো ডোজ পায়নি, কিংবা ১৫ মাসের মধ্যে মাত্র এক ডোজ পেয়েছে অথবা দুই ডোজ সম্পন্ন করার পর এক মাস অতিবাহিত হয়েছে—তারা সবাই এই টিকার আওতায় আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কমলেশ মজুমদার, ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল, বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক এবং ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিবৃন্দ।
১০ মে পর্যন্ত যশোরের ২২৫৬টি কেন্দ্রে এই টিকাদান কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকবে। শিশুদের মরণব্যাধি হাম থেকে মুক্ত রাখতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।